১ মে ২০২১
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদরের লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রামের পানির সংকটে থাকা বাসিন্দারা পেতে যাচ্ছেন নতুন দুইটি টিউবওয়েল। তাদের পানির সংকট নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর গুচ্ছগ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে টিউবওয়েল স্থাপন করার কথা বলেছেন জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকোশলী আবুল কাশেম।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবার উদ্যোগে প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি দল বৃহস্পতিবার গ্রামটি পরিদর্শন করে।
গ্রামের সব টিউবওয়েল যে নষ্ট, কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে তা নিশ্চিত হন। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, সংবাদটি দেখে সাংসদ মহোদয় ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা গুচ্ছগ্রামে এসেছি। এখানের সবকটি নলকূপ নষ্ট হয়ে গিয়েছে, পানির স্থরও কমে গেছে। এই গুচ্ছগ্রাম তৈরির প্রকল্পে কাজে অনিয়ম করেছে ঠিকাদার। দায়সারাভাবে কাজ করায় দ্রুতই নলকূপ নষ্ট হয়েছে। আমরা গ্রাম পরিদর্শন করেছি। আমরা এখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিপ টিউবওয়েল লাগাব। এতে গ্রামবাসীর খাবার পানির সমস্যা নিরসন হবে।
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার থেকেই এই টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসে এবং সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মহোদয় আমাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানান। শনিবার থেকেই নলকূপ বসানোর কাজ শুরু হবে।
এরআগে ওই গ্রাম ঘুরে জানা যায়, পানির চাহিদা মেটাতে সেখানে স্থাপন করা হয় ১৫টি টিউবওয়েল। মেরামত না হওয়ায় ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এর সবগুলোই প্রায় দেড় বছর ধরে অচল।
পানির সংকট মেটাতে সে গ্রামের মীনা রানী দাস মোটর দিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা করেন। শুরুর দিকে গ্রামবাসীকে তিনি বিনা মূল্যে পানি দিলেও এখন দিনপ্রতি পাঁচ টাকা নেন।
পানি সরবরাহকারী মীনা রানী দাস বলেন, সবার কষ্টর লাগি আর নিজেদের পানির দরকারের লাগি মোটর লাগাইয়া সবাইরে পানি তুলিয়া দিই। প্রথম পাঁচ-ছয় মাস আমি টাকা নিসি না। কিন্তু কারেন্ট বিল বেশি আয় যার লাগি আমি পাঁচ টাকা করি নিই। আমিও গরিব মানুষ, টাকা কই পাইতাম।
গুচ্ছগ্রাম মসজিদের ইমাম নজরুল ইসলাম জানান, রোজার মাস হওয়ায় পানির প্রয়োজন আরও বেড়ে গেছে। আমরা অনেক কষ্টে দিনপার করাম৷ নদীত গোসল, থালাবাসন সব ধোয়া হয়। ওজুর পানিও ইকান থাকি আনা লাগে। নদীএ পাড়টাও ঠিক না, পাও পিছলিয়া অনেক সময় দুর্ঘটনা অয়। এখন আবার রমজান মাস, সবাইরে ইফতারের আগে পানির লাগি লাইন ধরতে হয়। এক বাড়ি থাকি পাঁচ টাকা করি আমরা সবে পানি আনি। তাইন এই সাহায্য করায় আমরা পানি খাইয়া বাঁচিয়া আছি।