২১ নভেম্বর ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের সংরক্ষিত রজ্জুপথের বাংকার বিলুপ্ত করতে আবারো উঠে পরে লেগেছে প্রভাবশালী পাথর সন্ত্রাসীরা। দিনে রাতে যন্ত্রদানব বোমা মেশিন দিয়ে তোলছে পাথর। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে রয়েছে দেশের বৃহৎ পাথর কোয়ারি। এ কোয়ারি থেকে উত্তোলিত পাথর ছাতক সিমেন্ট কারখানায় সরবরাহের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল রেলওয়ের রজ্জুপথ (রোপওয়ে)। ১৯৬২ সালে ৩৭৯ একর ভূমির ওপর ছাতক-ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ স্থাপন করা হয়েছিল। স্বল্প ব্যয় ও সহজ পদ্ধতিতে পাথর পরিবহনের জন্য কোয়ারি এলাকায় রেলওয়ের ভূমির ওপর স্থাপন করা হয় রজ্জুপথের বাংকার।
এ রজ্জুপথের মাধ্যমেই ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতকে পাথর সরবরাহ হতো। কিন্তু ১৯৯৪ থেকে এ রজ্জুপথের ব্যবহার নেই। রেলওয়ের মালিকানাধীন ৩৭৯ একর ভূমি এখন ৪০ একরে নেমে এসেছে। বাকি ৩৩৯ একর ভূমি দখল করে নিয়েছে পাথরসন্ত্রাসীরা। আর তাদের হয়ে কাজ করছে এই বাংকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত মামুন নামের এক নিরাপত্তাকর্মী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এ রজ্জুপথের বাংকার রক্ষায় ২০১১ সালে উচ্চ আদালত থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় পরর্বতিকালে অর্নিদষ্ট সময়েরে জন্য ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। কিন্তু অসাধু নিরাপত্তাকর্মী মামুন ও পাথর সন্ত্রাসী শামিম আহমদসহ তাঁর সহযোগীরা বাংকারের উত্তর পারের পাশে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তুলছে। সেখানে শামিম বাহিনীর বোমা মেশিন ছাড়া আর কারো বোমা মেশিন নামাতে দেয়া হয় না । এছাড়া কেউ বোমা মেশিনের ছবি তোলতে গেলে তাদের ধাওয়া দেয়া হয়।
সূত্র আরো জানায়, কিছু দিন আগে মামুন ২ জন বাংকার এলাকায় গেলে তাদের নামে মামলা দিয়ে চালান দিয়েছে। শামিম বাহিনীর অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করছেন মামুন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বাংকারের উত্তর পারে বোমা মেশিন শুধু শামিম বাহিনীর; সেখানে অন্য কারো বোমা মেশিন বসাতে দেয়া হয় না। এর বিনিময়ে মামুনকে দেয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এ ছাড়াও পূর্বপারে বোমা মেশিন প্রতি মামুনকে দেয়া হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে অভিযানের নাম করে বোমা মেশিনের ব্যাটারি নিয়ে যান বাংকারের নিরাপত্তা কর্মীরা।
তিনি আরো জানান, উত্তরপারে শামিম আহমদ এর ২টি, কেফায়েত উল্লাহর ২টি, শামিমের ভাই বিল্লাল আহমদের ১টি, বাবুল মিয়া এর ১টি, ফোরকান আলীর ১টি, এখলাস মিয়ার ১টি, নূর উদ্দিনের ১টি এবং সাইফুলের ১টি করে ৮ সিলিন্ডারের বোমা মেশিন রয়েছে। তারা সবাই উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের পরিবারের সদস্য বলে দাবি করছেন তিনি।
স্থানীয় আরেকটি সূত্র জানায়, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শামিম আহমদ বাহিনী। তাদের চাঁদা না দিয়ে সেখানে কোনো ভাবেই পাথর তুলতে দেয় না। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন পাথর শ্রমিকরা। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের থামাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শামিমের ভাতিজা কেফায়েতের লাঠিয়াল বাহিনী। এর মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। সেই টাকার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে রেল নিরাপত্তা কর্মী মামুন খান বলেন, আমার সহায়তায় কোথাও পাথর উত্তোলন হচ্ছে না। যারাই বাংকার এলাকা থেকে পাথর তুলছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। গত শুক্রবারও দুজনকে অবৈধভাবে বাংকার এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের দায়ে আটক করেছি। আর যাদের আশ্রয়ে বাংকার এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে, তাদের তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এ প্রসঙ্গে শামীম আহমদের বক্তব্য জানতে তার মোঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন বিজি পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা নিবাহী র্কমকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, আমরা প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ১০টির মতো অভিযান পরিচালনা করছি, যা আরো জোরদার করা হবে। বাংকার এলাকা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানা তিনি।
(আজকের সিলেট/২১ নভেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)