২৫ এপ্রিল ২০২১


সিলেটে কমেছে আক্রান্ত, বেড়েছে মৃত্যু

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সরকারের নেয়া চলমান বিধিনিষেধে সিলেটে কমেছে শনাক্তের সংখ্যা। একই সাথে বেড়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থতার হারও। তবে বিধিনিষেধের এই সময়ে কিছুটা বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা।

গত ১ এপ্রিল থেকে প্রথমে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ ১৮ নির্দেশনা, পরে লকডাউন, কঠোর লকডাউন চলছে। আগামী ২৮ এপ্রিল চলমান এই লকডাউন শেষ হচ্ছে। এরমধ্যে আজ রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে দোকানপাট-শপিংমল। আর ২৯ এপ্রিল থেকে গণপরিহণ চালু হতে পারে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিসের’ উপর জোর দিচ্ছে।

আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হলে সরকার যে বিধিনিষেধ দিয়েছে তা অনেকাংশেই কাজে এসেছে। এই বিধিনিষেধের মধ্যে আরও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আরও সুফল মিলতো। তবে চলমান বিধিনিষেধ উঠে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের গত ৫ মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৩ হাজার ৩৬৬ জন। একই সময় পর্যন্ত বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ২৭৯। আর বিভাগজুড়ে সুস্থ হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৭০২ জন।

আর চলতি বছরের ১ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৪৯১ জন। এই সময়ের মধ্যে মারা যান ২৯০ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন ১৬ হাজার ১৮১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী।

অন্যদিকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ১৮৭ জন। একই সময় পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে থেকে সুস্থ হন ১৮ হাজার ৩১৪ জন আর মারা যান ৩২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিধিনিষেধের আগের ২৪ দিনে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১২৫ জন। আর এই ২৪ দিনে মারা গেছেন ১১ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৪৭৯ জন।

আর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৮ নির্দেশনার প্রজ্ঞাপন ও বিধিনিষেধের ২৪ দিনে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৩৩ জন। আর মারা গেছেন ৩৪ জন। অর্থ্যাৎ চলমান বিধিনিষেধের সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। বিধিনিষেধের আগের ২৪ দিনে যেখানে সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ৪১ শতাংশ। বিধিনিষেধের ২৪ দিনে তা নেমে এসেছে প্রায় ২৬ শতাংশে।

অন্যদিকে বিধিনিষেধের এই সময়ে সুস্থ্যতার হার বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। বিধিনিষেধের আগের ২৪ দিনে যেখানে সুস্থ্যতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশের কিছু বেশি, সেখানে বিধিনিষেধের ২৪ দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ শতাংশে। তবে উলটো চিত্র মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিধিনিষেধের সময় মারা গেছেন বেশি। বিধিনিষেধের আগের ২৪ দিনে যেখানে মারা গেছেন মাত্র ১১ যন। সেখানে বিধিনিষেধের ২৪ দিনে মারা গেছেন ৩৪ জন।

তবে আগের সংক্রমিত রোগীরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়ে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সিলেটের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, চলমান বিধিনিষেধের সময় সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে। একই সাথে বেড়েছে সুস্থ্য রোগীর সংখ্যা। তবে চলমান বিধিনিষেধে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি আরও ভালোভাবে মেনে চললে হয়তো পরিস্থিতি আরেকটু ভালো হতো।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন কিংবা বিধিনিষেধ উঠে গেলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। একই সাথে সকল ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

ডা. শামীম আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মানুষ শতভাগ না হলেও অনেকটাই মানছে বিধিনিষেধ। পাশাপাশি জনসমাগম ও পর্যটনস্পট, গণপরিবহন বন্ধ হয়েছে। এতে মে মাসের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

এর আগে গত ২৯ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা, জনসমাগম সীমিত করা, গণপরিবহণে যাত্রী অর্ধেক নেয়াসহ ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল থেকে সিলেটের সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে সিলেটে সকল ধরণের দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। এরপর করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর তা বিভিন্ন দফায় বেড়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

শেয়ার করুন