২৪ এপ্রিল ২০২১


প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে হত্যা করে ছেলে

শেয়ার করুন

নবিগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাকে হত্যা করে ছেলে এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা আরশ আলী পক্ষের ৩ জনকে আটক করি। পরে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানা গেছে।

শনিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

পুলিশ সুপার জানান, স্থানীয় বিছনা নদীর লীজ নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার বাঁশডর গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০/১২টি মামলাও রয়েছে। এরই জের ধরে গত বছরের ১৫ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলালাকে বিচানায় শুয়ে থাকা ৭৫ বছরের বৃদ্ধ জাহির আলীকে তার ছেলে আরশ আলী এবং তার গোষ্ঠির লোকজন ফিকল (বল্লম জাতীয় অস্ত্র) দিয়ে পেটে আঘাত করে হত্যা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ ও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরশ আলী বাদী হয় পরদিন প্রতিপক্ষের ৯২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, পুলিশ মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে বাদী পক্ষের লোকজনের কথাবার্তা সন্ধেহ দেখা দিলে গত ২২ এপ্রিল বাদী পক্ষের মিসবাহ উদ্দিনকে আটক করা হয়। এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালায় নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় সে ঘটনার বর্ণনা করে। তার দেওয়া তথ্যমতে গত ২৩ এপ্রিল বাদী পক্ষের সামছুল হক ও জিলু মিয়াকে আটক করে। ২৪ এপ্রিল তারা আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে জানায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিহত জাহির আলীর ছেলে আরশ আলীর নেতৃত্বে তার গোষ্টির ৭ জন মিলে জাহির আলীকে হত্যা করে।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় ছেলেসহ বাকি ঘাতকরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য,হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাঁশডর গ্রামে নদীর লিজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলাও রয়েছে ডজনখানেক। এর জেরে গত বছরের ১৫ জুলাই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় খুন হন জাহির আলী (৭৫)। এ ঘটনায় বাবাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিপক্ষের ৯২ জনকে আসামি করে মামলা করেন বৃদ্ধের ছেলে আরশ আলী। তবে প্রায় ৯ মাস পর এই হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে।

শেয়ার করুন