২৩ এপ্রিল ২০২১


বেস্তেই গেল পুলিশের ‘বাঁশ থেরাপি’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : আদালত পাড়ার সামনে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। পাশেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বাসভবন, নগর ভবন। খানিক দূরেই এসপির বাসভবন ও কোতোয়ালি মডেল থানা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রায় হাজার গজের ভেতরেই মানুষের ঢল। সড়কে যান চলাচল ঠেকাতে দেওয়া বাঁশের ব্যারিকেডের উপর দিয়েই চলছে সব বাহন।

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় প্রথম দফার ‘কঠোর’ লকডাউন সিলেটে ঢিলেঢালাভাবে কেটেছে। পুনরায় আরো সাতদিন লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। আর এই সাতদিনের লকডাউন কঠোরভাবে মানার কথা থাকলেও সিলেটে ঠিক এর বিপরীত। রাস্তার পাশে মানুষের স্রোত। সড়কে যানজট। এমনই লকডাউন চলছে সিলেটে।

যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নগরের প্রবেশদ্বারসহ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিলেও তল্লাশি চৌকি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যারিকেড মান্য করে চলার বদলে এখন বাঁশের ব্যারিকেড উপড়ে ফেলা হচ্ছে।

আর জেলা প্রশাসনের অভিযান প্রায় দুপুরের পর বেরোলেও ঘণ্টা দেড়েকের জন্য যেন প্রতীকী হিসেবে করা হয়। ফলে লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের সুরমা মার্কেট পয়েন্ট ও কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেডের একপাশ ভেঙে দিয়ে যানবাহন যাতায়াত করছে। বড় গাড়ির যাতায়াতে বাঁশ চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে গেছে। বাঁশের উপর দিয়েই যানবাহন যাতায়াত করছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের বাসভবনের ফটকের পাশ থেকে ক্বীনব্রিজ মোড় পর্যন্ত যেন জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা নগরের বিভিন্ন পয়েন্টের। যে কারণে সিলেটে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে পরিণতি আরো ভয়াবহ হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে সিলেট জেলা প্রশাসনের ৫৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়েও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সাড়ে ৩শ গাড়ির ওপর মামলা ও সাড়ে ৪শ গাড়ি জব্দ করলেও যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। কাজে আসেনি পুলিশের বাঁশ থেরাপিও।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন চেষ্টা করেও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যে কারণে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ আকারে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রশাসন আরো কঠোর হয়ে রাস্তায় মানুষের জটলা দূর করতে পারতো।

এসএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি.এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, সংক্রমব্যাধি আইনে জরিমানা করার বিধান পুলিশের নেই। সেটা সিভিল সার্জন কিংবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া হয়েছে। যদি পুলিশ জরিমানা করতে পারতো, তাহলে হাজারো পুলিশ মোড়ে মোড়ে থাকতো। লোকজনকেও আইন মেনে চলতে হতো।

তিনি বলেন, এখন বাঁশের ব্যারিকেড আর যাই করেন, মানুষকে আটকানো দায় হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও স্বল্পসময়ের জন্য অভিযানে বের হন। যে কারণে লকডাউনেও মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন