২১ এপ্রিল ২০২১


হবিগঞ্জে পরিবেশ দূষণের দায়ে ‘মার লিমিটেড’ সিলগালা

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : পরিবেশ দূষণের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশে মাধবপুর উপজেলার ‘মার লিমিটেড’ নামে একটি কারখানা সিলগালা করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ জোহরা কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছেন। এসময় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুদ্দিন মো. রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জের পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম, পল্লী বিদ্যুতের ২জন প্রতিনিধি, নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ, মাধবপুর থানার এএসআই রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ‘মার লি.’ থেকে নির্গত বর্জ্য স্থানীয় এখতিয়ারপুর খালের পানি ও পরিবেশ দূষণ করছে অভিযোগ এনে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে।

এ প্রেক্ষিতে গত ১৫মার্চ বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রিটে সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধবপুর, পরিচালক (মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট), পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট ও মার কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।

ওই রুলে মাধবপুর উপজেলার শাহ্পুরে ‘মার লি.’ কোম্পানি অননুমোদিত, বিপজ্জনক ও দূষণ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিবাদীগণের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ, আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত ও জনস্বার্থ বিরোধী ঘোষণা করা হবে না, শিল্প প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান স্থান থেকে ঘোষিত কোন শিল্প এলাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং ওই প্রতিষ্ঠানের দূষণ থেকে এখতিয়ারপুর নামক খাল রক্ষার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।

সেই সাথে উল্লেখিত বিবাদীগণকে কোম্পানি কর্তৃক ওই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি নিরূপণ সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়।

এদিকে, মার লিমিটেড গত ১৯ এপ্রিল অ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চেয়ে একটি সিভিল পিটিশন করেন। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে ওই আদালত কোন স্থগিতাদেশ না দিয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর জন্য প্রেরণ করেন বলে বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ‘মার লি.’ মূলত ড্রাই স্টার্চ পাউডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন যাবৎ কারখানার কার্যক্রমের ফলে প্রচুর পরিমাণে তরল বর্জ্য উৎপন্ন হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কারখানার সৃষ্ট তরল বর্জ্য কোনরূপ পরিশোধন ছাড়াই পার্শ্ববর্তী এক্তিয়ারপুর খালে নির্গমণ করা হয়। ইটিপি যথাযথ ব্যবহার না করে দূষিত বর্জ্য পার্শ¦বর্তী এক্তিয়ারপুর খালে নির্গমণ করায় খালের পানি সম্পূর্ণরূপে দূষিত হয়ে পড়ে। বর্জ্যরে দুর্গন্ধে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শ্রীমতপুর, দাসপাড়া, ছাতিয়াইন উত্তর, ছাতিয়াইন দক্ষিণ, সাকুচাইল, পিয়াইম, শিমুলঘর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার একাধিক গ্রামের বাসিন্দাগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। অসহনীয় এ দূষণের প্রতিবাদে বাপার সহযোগিতায় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

তারপরেও ওই কোম্পানি চালু থাকায় এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় এর বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আইনগত সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবীর সমিতির (বেলা) সহযোগিতা চাওয়া হয়। আদালত মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তরকে উল্লেখিত কোম্পানির সকল কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলা পরিচালনা করেন বেলার নির্বাহী এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শেয়ার করুন