২০ এপ্রিল ২০২১
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : দেশে যখন প্রথমবারের মত করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছিল তখন সারাদেশের ন্যায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাত ধোয়ার বেসিন ও পানির ট্যাংকি স্থাপন করেছিল। কিন্তু বাস্তবে হাত ধোয়ার বেসিন ও পানির ট্যাংকি শুধু নিয়মেই সীমাবদ্ধ। শুরুর দিকে কিছুদিন বেসিনের পাশে হাত ধোয়ার উপকরণ হিসেবে সাবানও রাখা হয়েছিল। তবে দিন গড়াতে সবই উধাও!
সরেজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার রেলওয়ে পার্কিং-এ বেসিনের মাঝে হাত ধোয়ার পানি নেই! সাবান রাখার স্থান আছে, কিন্তু সাবান নেই! এমন অবস্থায় রয়েছে উপজেলার অলিপুরের বেসিনটি। একইভাবে উপজেলার বেসিন শুধু নামেই আছে, কাজে নেই। বেসিনের মাঝে ধুলোবালি আর ময়লা জমে আছে, তদারকি না থাকার কারণে করোনা প্রতিরোধে এসব কোন কাজেই আসছে না। জনসচেতনতার অভাবে জনসাধারণ ও বেসিন যেমন ব্যবহার করছেন না, তেমনি কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে রয়েছেন উদাসীন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রতিটিতে ষাট হাজার টাকা ব্যয়ে দুইটি বেসিন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর একটি বসানো হয় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পার্কিংয়ের কাছে ও আরেকটি মহাসড়কের অলিপুরে।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা গণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা কতসুন্দর করে বেসিন নির্মাণ করে দিয়ে আসছি, কিন্তু সাধারণ মানুষের অসচেতনতার জন্য বেসিন ঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জে যে বেসিনটি বসানো হয়েছে সেটির পানি অনেক দূর থেকে পাইপ দিয়ে আনা হয়েছে। রেলপার্কিংয়ে অতিরিক্ত গাড়ি আসা-যাওয়ার কারণে পাইপ ফেটে গিয়ে পানির সংযোগ ব্যাহত হয়। আর সাবান পানি দেখভাল করার জন্য স্থানীয় একজন দোকানদারকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছিলাম, আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বেসিন বাড়ানো যায় কিনা; এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বেসিন চাইলে বাড়ানো যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ এর ঠিকমত ব্যবহার করতে জানে না, ফলে আমাদের বদনাম হয়।’