১৯ এপ্রিল ২০২১


ভোলাগঞ্জে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেফতার নেই

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত (বাঙ্কার) এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় ঝড়ের কবলে পড়ে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় থানায় তিন পাথরখেকোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার আসামীরা হচ্ছে-উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া (৩২), একই গ্রামের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও পাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা কেফায়েত উল্লা (২৮)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এই ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও এ মামলার কোন আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল জানিয়েছেন, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

জানা গেছে, শ্রমিক জহির আলম নিহতের ঘটনায় তার মা রিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার তারিখ ও সময়ে উল্লেখিত আসামীরা তার ছেলেকে রেলওয়ের বাঙ্কারে পাথর উত্তোলনে নিয়ে যায়। রেলওয়ের বাঙ্কার সরকারি জমি হওয়া স্বত্ত্বেও আসামীরা তাকে সেখানে নিয়ে যায় বলে এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন। জহিরসহ অন্য শ্রমিকদের কাছে এ জায়গাকে নিজেদের জায়গা দাবি করে তারা সেখানে গর্ত করিয়ে ৬০/৭০ ঘনফুট পাথর উত্তোলনের পর অতিরিক্ত নৌকা বোঝাই করে শ্রমিকদের দ্রুত দয়ারবাজারের দিকে নিয়ে যেতে বলে। বাঙ্কার থেকে অনুমান ৩শ’ গজ পূর্বে অতিরিক্ত পাথর বোঝাই নৌকা নিয়ে যাওয়ার পথে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। অন্য শ্রমিকরা সাঁতার কেটে তীরে উঠলেও জহির আলম পানিতে ডুবে যায়। এরপর ১৫ এপ্রিল দুপুরে ডুবরীরা তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত পাথর শ্রমিক জহির (২০) সিলেট সদর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।

জানা গেছে, লকডাউন ঘোষণার পর থেকে একটি চক্র রাতের বেলা ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথের সংরক্ষিত এলাকা খোঁড়াখুড়ি করে পাথর তুলছিল। জহির সেই চক্রের মাধ্যমে মজুরির ভিত্তিতে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে মারা গেছেন। তাঁকে পাথর উত্তোলনের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন শাহাব উদ্দিন, কেফায়েত উল্লাহ ও রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র। প্রতিদিন রাতে রজ্জুপথ এলাকায় নৌকাপ্রতি ২০ হাজার টাকা অগ্রিম আদায় করে চক্রটি পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, জহিরের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ, বিজিবি ও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীকে (আরএনবি) নির্দেশ দেয়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে একটি সংরক্ষিত এলাকা। এখানে মাটির নিচে পাথর থাকায় একশ্রেণির পাথরখেকো চক্র নানা কৌশলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লকডাউনের সুযোগে ওই চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

শেয়ার করুন