৩ এপ্রিল ২০২১
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : নামের সাথে মিল থাকায় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া বানিয়ে অন্যজনকে সম্মান দেওয়ার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ভূক্তভোগী।
মৌলভীবাজারের জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সফিক মিয়ার ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব আলম রওশন শনিবার জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিক মিয়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।যা ভারতীয় তালিকার ২২৩ নং পৃষ্ঠার ২৭,৮২০ ক্রমিকে লিপিবদ্ধ রয়েছে।তিনির জীবদ্দশায় রাষ্ট্র ঘোষিত কোন সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় বিগত ২০১৪ সালে আমার মা মৃত জোবেদা খাতুন সরকারের যথাযথ কাগজ পত্র উপস্থাপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরকারি সুযোগ সুবিধার জন্য আবেদন করেন।সরকার সকল যাচাই-বাছাই শেষে আমার পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে আমার মাকে সকল ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছে ২০১৮ সাল থেকে।
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের আজিরুন বেগম ২০০৫ সাল থেকে বেসামরিক গেজেটের ১০৬১ নম্বর দিয়ে তার স্বামীর নামের মুক্তিযুদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। সম্প্রতি জামুকা কর্তৃক তার গেজেট নম্বরের তদন্ত শুরু হলে তিনি বিপাকে পড়ে আমার পিতার ভারতীয় নাম্বারকে তার স্বামীর নাম্বার বলে দাবি করেন।তার স্বামী জুড়ীর বাসিন্দা বলে বর্তমানে দাবি করলেও উনার জন্ম এবং মৃত্যু সনদে তাদের জন্মস্থান কমলগঞ্জের কালেঙ্গা বলে উল্লেখ রয়েছে।বিগত ২৪/০৩/২০২১ তারিখে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকার করেন যে আমার পিতাসহ তারা এক সাথে যুদ্ধ করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকে আমার প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বলেন, সফিক মিয়া আমাদের সাথে ভারতের মাছিমপুর,রানীবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে ছিলেন।তিনি বেশির ভাগ সময় মুক্তিযুদ্ধাদের সরঞ্জামাদী গাড়িতে লোড-আনলোড করতেন।সরাসরি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও করেছিলেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল বলেন,কমলগঞ্জের সফিক মিয়ার স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই নামের দুইজন মুক্তিযোদ্ধা দাবি করায় মাহবুব আলম রওশন এর পিতার প্রাপ্ত ভাতা সাময়িক স্থগিত করেছি।
কাগজ পত্রে দেখা যায়, জুড়ীর ফুলতলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিক মিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আর মৃত্যু ১৯৮০ সালের ২ সেপ্টেম্বর। অপরদিকে কমলগঞ্জের সফিক মিয়ার জন্ম ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারী এবং মৃত্যু ২০০৬ সালের ১১ ডিসেম্বর। অন্যদিকে ফুলতলার সফিক মিয়ার মায়ের নাম ছয়বুন বিবি আর কমলগঞ্জের সফিক মিয়ার মায়ের নাম আমিনা বেগম। এসব কাগজে ফুলতলার সফিক মিয়ার কাগজের সাথে বর্তমান প্রাপ্ত ভাতাদি পাওয়ার কাগজের নামের সাথে যথার্থ মিল রয়েছে।