১৩ এপ্রিল ২০২১


দফায় দফায় বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে প্রতিবছর একবার বাড়ে নিত্যপণ্যের দাম। কিন্তু, এবার তিন মাস থেকে দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সর্বশেষ রমজান এবং লকডাউন উপলক্ষে দুই সপ্তাহে দু’দফা দাম বেড়েছে নিত্য পণ্যের। অস্বাভাবিক বাড়তি দামে জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবন নির্বাহে উঠেছে নাভিশ্বাস। সাধারণ মানুষের অভিযাগ, রমজান শুরু হওয়ার আগেই অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম। বিশেষ করে রমজানে যেসব খাবারের চাহিদা বেশি সেসব খাবার এবার দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে নিত্যপণ্যের চাহিদা থাকে বেশি। এ সময় সারা মাসের খাবার অনেকে ঘরে নিয়ে মজুদ করে রাখেন। ফলে দ্রব্যমূল্য কিছুটা চড়া থাকে। কিন্তু, এবার রমজান এবং লকডাউনের কারণে কয়েক দফায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।

মদিনা মার্কেট থেকে রমজান উপলক্ষে বাজার করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক শফিক উদ্দিন জানান, গত জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে যে ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ছিলো ১২০ টাকা। এই দু-তিন মাসে দফায় দফায় দাম বেড়ে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি দাম ছিলো ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। কিন্তু, এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।

বন্দরবাজারে খেজুর কিনতে আসা শরীফ আহমদ জানান, সাধারণ মানের খেজুর যা গত বছর প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। এবার ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, গতকাল রোববার পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়াজনীয় খাদ্য-পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই’র গৃহীত বিশেষ কার্যক্রম এবং চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, যদি কেউ কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজির মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন।

গতকাল রোববার সিলেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এই সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। বেড়েছে খেজুর, সয়াবিন তেল, মসলা, সবজি, ব্রয়লার মুরগি, আলু, রসুন ও পেঁয়াজের দাম।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, রোজানির্ভর পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ ও খেজুরের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে বেড়েছে এলাচ, শুকনা মরিচ, রসুন ও আদার দাম। এদিকে, মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।

নগরীর লালবাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। সজিব রহমান নামে এক বিক্রেতা জানান, শবেবরাতের আগে থেকেই এই দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার। তবে করোনায় বিধিনিষেধ আরোপের দ্বিতীয় দিন গত মঙ্গলবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ টাকায় নেমে এসেছিল।

জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিবগঞ্জের বাসিন্দা মুখলিছুর রহমান বলেন, সারা পৃথিবীতে রোজার আগে জিনিসপত্রের দাম কমলেও বাংলাদেশে হচ্ছে এর ঠিক উল্টো।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই জিসিনপত্রের দাম বাড়ছে, রোজা শুরু হতে না হতে এখন আবার ব্যবসায়ীরা সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বাজারে পণ্য সরবরাহের কোনও ঘাটতি নেই।

খুচরা ব্যবসায়ীরাও বলছেন, রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে বাজারে সেগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু, তাদের বাধ্য হয়েই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ পাইকারী বাজারে দাম বেশি। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

এদিকে, গত দুই মাস আগে থেকেই রোজানির্ভর পণ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এগুলোর দাম কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে রোজানির্ভর পণ্যের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হলো। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা। মোটা চাল কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৫২ টাকা দিয়ে। এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৪৮ টাকা কেজি। প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। পাইজাম চাল বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি, যা সাত দিন আগে ছিল ৫৬ টাকা।

বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৩ হাজার টাকা। এক সপ্তাহে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০০ টাকার মতো। এছাড়া, শুকনা মরিচ ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সাত দিন আগে এ মরিচের দাম ছিল ২৮০ টাকা কেজি। আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা সাত দিন আগে ছিল ১১০ টাকা।

বাজারে মাঝারি মানের মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন ১২৫ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১২১ টাকা লিটার। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি। সাত দিন আগে ছিল ৩৫ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে সাধারণ মানের খেজুর ১২০ টাকা কেজি পাওয়া গেলেও শুক্রবার সেই খেজুর ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সিলেটের কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারগুলোতে পটল, বেগুন, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, লাউ, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, করোনায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সবজির গাড়ি কম আসায় দাম বেড়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লালদীঘি মাঠের কাচা বাজারের ব্যবসায়ী মাহিম আহমদ বলেন, ‘সব সবজির দাম এখন চড়া। বেগুন, পটল, বরবটি, ঢেঁড়সের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে।’

বাজারে পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বরবটি। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শিমের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা কিনতে কেজিতে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শশা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন