২৫ মার্চ ২০২১
অতিথি প্রতিবেদক : সিলেটে একের পর এক ঘটছে হত্যাকান্ড। এইসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সিলেট অঞ্চল। দমে থাকেনি আত্মহত্যার ঘটনাও। এর মধ্যে স্বামীর হাতে স্ত্রী, প্রেমিকের হাতে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী, ছিনতাইকারী ও দুর্বৃত্তদের হাতে ব্যবসায়ী, বসতঘরে মা-মেয়েকে গলাকেটে হত্যা, হাসপাতাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও ডোবা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। এছাড়া সীমান্তে দায়িত্বে নিয়োজিত ভারত-বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
চলতি মাসে সিলেট অঞ্চলে হত্যাকান্ড ঘটেছে ২৩ টি। ৪ মার্চ থেকে শুরু করে ২৪ মার্চ পর্যন্ত এইসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০ মার্চ একদিনে ৪ হত্যাকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। তিনটি হত্যাকান্ড ঘটেছে ১৮ মার্চ। তাছাড়া, দুটি করে হত্যাকান্ড ঘটেছে আরো ৫ দিন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বাহিরেও হত্যাকান্ড ঘটেছে-এমন বিষয়টিও বলছেন অনেকেই।
তুচ্ছ কারণে একের পর এক খুনের মতো ঘটনা ঘটছে সিলেট অঞ্চলে। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরের শুরু থেকে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এই খুনের ঘটনা। সর্বশেষ দুটি হত্যাকান্ড ঘটে ২৪ মার্চ। এইদিন পৃথক স্থানে ২টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৪ বছরের এক কিশোরও রয়েছে।
২৪ মার্চ সিলেট ও সুনামগঞ্জে দুটি লাশ উদ্ধার
সিলেট ও সুনামগঞ্জে একদিনে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জে।২৪ মার্চ সকালে উপজেলার শিমুলবাক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রাম থেকে ইমন আহমদ(১৪) নামের এক শিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত শিশুটি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে। নিহত শিশু ইমন মুক্তাখাই গ্রামের আজাদ মিয়ার ফার্ণিচারের কারখানায় কর্মচারী হিসেবে কাজ করত এবং কারখানাতেই কারখানার এক মিস্ত্রির সাথে রাত্রিযাপন করত। বুধবার সকালে ইমনের লাশ বিছানায় মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। একই দিনে অপর ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরে। উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজারে সকালে একটি পাথরবাহী ট্রাক ঢাকা মেট্রো ট (২২-৫২১১) নং গাড়ি থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম মুজিবুর রহমান (৪০), তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা।
২৩ মার্চ জুড়িতে চা শ্রমিক খুন
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে চা বাগানে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে বাগালের (বাগানের পাহারাদার) দা’য়ের কোপে মনা পাশী (২০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। ২৩ মার্চ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সাগরনাল চা বাগানের ৩নং সেকশনে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বাগানের বড় লাইনের বাসিন্দা শংকর পাশীর পুত্র মনা পাশী (২০) মঙ্গলবার বিকালে বাগানের ৩নং সেকশনের ভিতরে গরু ছেড়ে দেয়। সেকশনের ভিতরে গরু চরানো নিষেধ এবং সেটা প্রতিহতের জন্য নিয়োজিত পাহারাদার (বাগানের ভাষায় বাগাল) মনাকে বাধা দেয় এবং গরু বের করতে বলে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে বাগাল অমরজিৎ পানিকা (২২) মনা পাশীকে দা দিয়ে গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মনার মৃত্যু ঘটে। অমরজিৎ বাগানের ১নং নতুন টিলা এলাকার শ্রীকুমার পানিকার পুত্র।
২২ মার্চ পৃথক ঘটনায় দুই খুন
২২ মার্চ সোমবার ছাতকে রহস্যজনকভাবে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বিল্লাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম বেদানা বেগম (৪৭)। তিনি কালারুকা ইউনিয়নের বিল্লাই গ্রামের মনোহর আলীর স্ত্রী ও কালারুকা গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে। স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি- কিটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে বেদানা বেগম (৪৭)। নিহতের পরিবারের অভিযোগ- স্বামীকে না বলে বাবার বাড়ি যাওয়ার কারণে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে তাকে।
একই দিনে তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর ভারতীয় অংশের এক কিলোমিটার ভিতরে ঘোমাঘাট এলাকায় কয়লা উত্তোলন করতে গিয়ে এক বাংলাদেশির লাশ পাওয়া যায়। ২২ মার্চ সোমবার এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের নাম সাইদুর রহমান। পরে শ্রমিকরা বিষয়টি বিজিবি ও নিহতের পরিবারকে জানায়। বিষয়টি সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় বিএসএফর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিএসএফ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করে। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিজিবি ও পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত সাইদুর রহমানের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
২১ মার্চ গোলাপঞ্জে খুন
সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গোলাপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এহতেশামুল হক শাহিন (৪২) কে খুন হয়েছেন। ২১ মার্চ রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের লরিপুর গ্রামের সড়কে সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করে পালিয়ে যায়। শাহিন লরিপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল হকের ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা। তিনি দুই শিশু পুত্র সন্তানের জনক।
২০মার্চ ৪টি হত্যাকান্ড
একদিনে পৃথক ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে ৪ জনের। ২৪ মার্চ এই চারটি ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে একজন কিশোর ও একজন গৃহবধূ রয়েছেন। ওইদিন সিলেটের বিশ্বনাথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ইমরান আহমদ সায়মন (২২) নামের তরুণ ব্যবসায়ী খুন হন। তিনি পৌর এলাকা দক্ষিণ মসুলা (জানাইয়া) গ্রামের মছলন্দর আলী মছনের পুত্র ও নাদিয়া এন্ড তায়েফ ভেরাইটিজ স্টোরের পরিচালক। ২০ মার্চ শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে পৌর শহরে তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
একই দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাপ্পা মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে ফুলতলা ইউনিয়নের পূর্ব বটুলী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই ব্যক্তি একই এলাকার আবদুর রউফের ছেলে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় আশরাফ হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ একইদিন ২০ মার্চ শনিবার উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন দুপুরে উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার মাইজের মহল্লা এলাকার একটি ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আশরাফ একই জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে। সে বানিয়াচংয়ের দোয়াখানী এলাকায় আশরাফ তার নানা বাড়িতে থাকতো।
এদিকে, ওই দিন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে স্বামীর কাঠের আঘাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ মার্চ) এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের সাজিদ উল্লার স্ত্রী গেধনী বেগম (৫২)কে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘাতক স্বামী কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই গেধনী বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৮ মার্চ ৩ হত্যাকান্ড
দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের গোটাটিকর থেকে জাকির হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের ফুলভরী গ্রামের আব্দুল হোসেনের ছেলে।
একইদিনে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নিজ ঘর থেকে মা ও মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার দ্বিগম্বরবাজার থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের লামাপুটিজুরী গ্রামের সন্দীপ দাসের স্ত্রী অঞ্জলী (৩৫) ও তার মেয়ে পূজা (৮)।
১৭ মার্চ হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার
হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে বীরেশ দাশ (৬৫) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত কেবিনের দরজা ভেঙে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বীরেশ দাশ শহরের শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা ও বানিয়াচং উপজেলার নজিরপুর গ্রামের মৃত মহেশ দাশের ছেলে।
১৬ মার্চ বিয়ানীবাজারে কিশোরী খুন
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাজনিন আক্তার (১৮) নামের এক স্কুল পড়ুয়া তরুণীকে খুন করে কথিত প্রেমিক। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এমন নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামে। এ ঘটনায় ঘাতক নাজিম উদ্দিন পাশা কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণী নাজমিন আক্তার বালিঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে বালিঙ্গা গ্রামের সামসুল হক চৌধুরী’র পালিত কন্যা।
১৫ মার্চ শিবেরবাজারে মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালাবাদ থানার শিবেরবাজারে এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মহিলার নাম ময়মুন নেছা (৫৮)। তিনি সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের মৃত মখন মিয়ার স্ত্রী। মহিলার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে ১৫ মার্চ সোমবার দুপুরের দিকে তারা তার লাশ উদ্ধার করেন।
১৩ মার্চ দিরাইয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুর নগর গ্রামে দু’পক্ষের লোক জনের সংঘর্ষে শাহ মুল্লক (৪৫) নামের ১ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ মার্চ) পিয়ান নদীর উত্তর পাড়ে সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মুল্লক নুর নগর গ্রামের আবদুস সালমের ছেলে।
১২ মার্চ দুটি লাশ উদ্ধার
১২ মার্চ মৌলভীবাজারের রাজনগর থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম লক্ষণ পাল (৩৫)। তিনি ব্যবসার কাজে রাজনগরে গিয়েছিলেন। শুক্রবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিনে সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের গোয়ালগাঁও প্রবেশের রাস্তার ডান পাশ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় অজ্ঞাত এক পুরুষকে উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের টহলরত একটি টিম দক্ষিণ সুরমা থানার সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের গোয়ালগাঁও প্রবেশের রাস্তার ডান পাশ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিটিকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার কোন পরিচয় এখনো পাওয়া যায় নি।
৭ মার্চ খাদিম চা বাগানে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মৃত্যু
শনিবার (৬ মার্চ) স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান স্বামী। সেখানে রাত ১২টার দিকে স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন স্বামী আয়নুল হক। ওই সময় নিহত সুফিয়া বেগমের বোন ইনজেশন পুশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে আয়নুল জানায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে ইনজেশন দেয়া হয়েছে। পরদিন রবিবার (৭ মার্চ) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সুফিয়া বেগম হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
রোববার (৭ মার্চ) সকালে স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত স্বামী মো. আয়নুল হক কোতোয়ালী থানাধীন বাগবাড়ি এলাকার মাসুক মিয়ার পুত্র। নিহত সুফিয়া বেগম এয়ারপোর্ট থানার খাদিম চা বাগানের মিত্রিঙ্গা লাইন বরইতলা গ্রামে মৃত হারুন মিয়ার কন্যা।
৬ মার্চ সুনামগঞ্জে বিজিবির সংঘর্ষে চোরাকারবারি নিহত
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাও সীমান্তে বিজিবি’র সাথে গরু চোরাকারবারিদের সংঘর্ষে ১ চোরাকারবারি নিহত হয়েছে। শনিবার (৬ মার্চ) দুপুওে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম কামাল মিয়া। তিনি রঙ্গাচর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
৪ মার্চ আরো দুটি হত্যাকান্ড
৪ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শমসেরনগর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়িতে গ্যাস ভর্তি নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সময় ছুরিকাঘাতে সিএনজি চালক জলিল মিয়া প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত চালকের বড় ভাই কাসেম আলী বাদী হয়ে কমলগঞ্জ সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া সফিসহ ৫ জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। নিহত চালক জলিল মিয়া আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর বস্তির বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার ছেলে।
একই দিনে সুনামগঞ্জের ছাতকে অজ্ঞাতনামা আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে পৌরসভার দক্ষিণ বাগবাড়ী আবাসিক এলাকার একটি জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
অধিকাংশ হত্যাকান্ডের পিছনে রয়েছে ক্রোধ।ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্রোধ থেকেই ঘটছে অনাকাঙ্খিত হত্যাকান্ড।এর মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘটছে এইসব হত্যাকান্ড। এইসব ঘটনায় বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। ফলে অবক্ষয়ের স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন কিছু সংখ্যক মানুষ। একই বক্তব্য সুশীল সমাজের। তাঁরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এই অবক্ষয় রোধ করা একার পক্ষে সম্ভব নয়।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, এর জন্য অনেকগুলো ঘটনাই আসলে দায়ি। আজ থেকে ২০ বছর আগের বিষয়টি নিয়ে যদি এখন তুলনা করি, তাহলে দেখবো সেই সময়টাতে অবক্ষয় কিংবা পারিবারিক অস্থিরতা এমন পর্যায়ে ছিলনা। সবচাইতে যে বিষয়টি এখানে আতঙ্কের, তা হচ্ছে যৌথ পরিবার প্রথার বিলুপ্তি। কারণ হিসেবে প্রফেসর সোহাগ বলেন, যৌথ পরিবার প্রথায় একটি চেইন অব কমান্ড থাকে। শিষ্টাচার, সহনশীলতা, পারস্পরিক মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি সেখানে গড়ে উঠে পারিবারিকভাবেই। কিন্তু দিনে দিনে যৌথ পরিবার প্রথা বিলুপ্ত হচ্ছে আর তাতে যুক্ত হচ্ছে একক পরিবারের। অর্থ্যাৎ পৃথক পৃথক হয়ে যাচ্ছে সম্পর্কটাও। তিনি বলেন, যেহেতু এর সাথে পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রীক স্বার্থের বিষয়টিও জড়িত সেহেতু প্রথমেই এই জায়গাগুলোতে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে একটি পরিবার যতো টুকরো হতে থাকবে, ততোই অবক্ষয় গুলো টুকরোভাবে ছড়িয়ে পড়বে সমাজের সর্বত্র। যার শোধ দিবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।
একের পর এক টানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সমস্যাও বৃদ্ধি পাবে। এই সমস্যা একদিনে কিংবা ঘোষণা দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এরজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সকল শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের অংশ গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ঘটনা চলে গেছে অসহনীয় পর্যায়ে। এই অবস্থায় হতাশা নয়, সাহস নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। ইতোমধ্যে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে আলোচিত একাধিক হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।