২০ মার্চ ২০২১


হোটেল কোয়ারেন্টাইন বাতিলের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুরু থেকেই আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে প্রতিবাদ করে আসছিলেন লন্ডন ফেরত প্রবাসীরা। এমনকি কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে নানা অনিয়মের অভিযোগও করেছিলেন তারা। এবার ‘অমানবিক যন্ত্রণা, বন্দিদশা ও ক্ষতির’ হাত থেকে মুক্তির জন্য হোটেল কোয়ারেন্টাইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন নিউহাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, ইউকে’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী লাকি মিয়া (লক্ষী)। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তিনি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে মন্ত্রণালয়েরে নির্দেশের বাইরে নতুন করে কিছু ভাবা সম্ভব নয়।

প্রেসকনফারেন্সে লাকি মিয়া হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীদের নানা দুর্গতি-দুর্ভোগ, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভিন্ন অবজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ট্রাস্টের বাংলাদেশ শাখার সভাপতি এম. সমছু মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাপে এসে বিশ্বের সর্বাধিক আক্রান্ত ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে যেখানে হোম কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চলমান। সে সব দেশে আগত ও প্রত্যাগতদের তেমন আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় না। এ ব্যবস্থায় দেশের সর্বত্র করোনা প্রসারের সম্ভাবনাও কম।

তিনি বলেন, করোনার ভয়াবহ প্রথম ধাপ পার হয়ে যখন দ্বিতীয় ধাপে। এ সময় দেশের ও বিদেশের অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ঠিক সেই সময়ে এ ব্যবস্থায় সিলেট ও অন্যান্য জেলার মধ্যে দেখা দিয়েছে বৈষম্য। দেশের অন্যান্য জেলায় বিদেশ থেকে আগতদের হোটেল কোয়ারেন্টেইনে অনুর্ধ্ব ৭ দিন রাখা হলেও সিলেটে আগত প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টেইনে রাখা হয় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত। তাই তাদের প্রতিদিন হোটেল ভাড়া দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে গুনতে হয়। এছাড়া খাবার-দাবারও বেশিদামে কিনে আনাতে হয়। সব মিলিয়ে দেশে আগত একজন প্রবাসীকে বিমান ভাড়া ছাড়াও গড়ে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা করে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। হোটেল কোয়ান্টেইনের কারণে প্রবাসীরা দেখতে পারছেন না তাদের স্বজনদের। স্বদেশে অবস্থান করে মৃত্যুশয্যায় থাকা আপনজনদের শেষবারের মতো দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

তিনি বলেন, যখন দেশে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমে এসেছে, চারিদিকে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। চলছে সভা-সমাবেশ মাহফিল এমনকি খেলা ও বাণিজ্য মেলাও। ঠিক সেই সময়ে বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে হোটেল কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা কতটুকু মানবিক? এ প্রশ্ন প্রবাসীদের।

এ সময় তিনি মিরের ময়দানের একটি হোটেলে থাকা এক প্রবাসীর সঙ্গে সিলেট কোতোয়ালী থানার এক এসআইয়ের চরম অমানবিক ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, মৃত্যু শয্যায় থাকা ওই প্রবাসীর মাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। দেখতে যেতে চাইলে তার সাথে ওই পুলিশ কর্মকর্তা গালমন্দসহ চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে এসএমপি’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দেখার সুযোগ মেলে। কিন্তু এর আগেই ওই প্রবাসীর মায়ের মৃত্যু হয়।

হোম কোয়ারেন্টেইনের বদলে হোটেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় দেশজুড়ে করোনা প্রসারের আশংকাও বেশি উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টেইনে বাসা-বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া কারও তেমন আসা যাওয়া থাকে না। আগত প্রবাসী থাকবেন একটি নির্দিষ্ট কক্ষে। ব্যতিক্রম ঘটলেও পরিবারের বাইরে সংক্রমণের তেমন কোন সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু হোটেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটক, অন্যান্য মানুষ ও হোটেলের কর্মচারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ সময় করোনা রোধে প্রয়োজনে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর মত ‘হোম আইসোলেশন’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানোর পাশাপাশি হোটেল কোয়ারেন্টিন বাতিলের জানান তিনি। এ সময় ট্রাস্ট নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারন শাখা, কোভিড-১৯ সেল, মিডিয়া সেল) শাম্‌মা লাবিবা অর্ণব’র সাথে এ ব্যাপারে মতামত জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনই বলেন, ‘মন্ত্রণালয় নির্ধারিত প্রজ্ঞাপনেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়া যারা দেশে আসছেন তারা জেনে বুঝেই দেশে আসছেন। তারা জানেন দেশে এসে প্রথম ৭ দিন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে উনাদের সামর্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দামের হোটেল নির্ধারণ করা আছে। এখন পর্যন্ত ১০ টি হোটেল চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। সুতরাং আর্থিক ক্ষতি বলেন আর যাই বলেন উনারা জেনেই সেখান থেকে আসছেন।’

অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন কোন কোন কারণে কোন প্রবাসী যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে আমাদের অবগত করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। এরকম এখনো কেউ আমাদের অবগত করেনি’

শেয়ার করুন