১৪ মার্চ ২০২১
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড) পরিচালিত কুলাউড়া ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বর্তমানে মাত্র একজন ‘ওয়ার্কস চার্জ লাইনম্যান’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে যাত্রা শুরুর পর ২০১২ সালে এই এক্সচেঞ্জের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫শ’। ২০২১ সালে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। তখন এক্সচেঞ্জের জনবল ছিল ৩ জন অপারেটর, ৩ জন লাইনম্যান, একজন নাইট গার্ডসহ মোট ৭ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র একজনে।
জানা যায়, তিনজন কর্মচারীর মধ্যে ২০১৬ সাল থেকে মোঃ মুজিবুর রহমান নামে একজন লাইনম্যান এক্সচেঞ্জে অবস্থান করে অভিযোগ গ্রহণ করে সহকারীদের দিয়ে গ্রাহক সেবা দিতেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি পিআরএল (পোস্ট রিটায়ারম্যান্ট লিভ)-এ চলে গেছেন। এক্সচেঞ্জের “ওয়ার্কস চার্জ লাইনম্যান” এর সহকারী কাম নৈশ প্রহরি সাজিদ মিয়াকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। অবশিষ্ট ওয়ার্কস চার্জ লাইনম্যান কামাল হোসেন এই এক্সচেঞ্জের সবেধন নীলমনি। গ্রাহকদের কোন অভিযোগ পেলে তাকে এক্সচেঞ্জের দরজা বন্ধ করে লাইন সংস্কারে যেতে হয়। ফলে দিবা-রাত্র এক্সচেঞ্জটি অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
এক্সচেঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করার জন্য কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মেঝেতে পড়ে রয়েছে। চেয়ার-টেবিল ও যন্ত্রপাতির পরতে পরতে ধুলার আস্তরণ এবং অনেকগুলো পুরাতন মূল্যবান ব্যাটারি স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে। ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ধুলায় ধূসরিত হয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগের কথা বলা হলে ২০১৯ সাল থেকে কর্মকর্তারা বলছেন, সহসাই একচেঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। তখন আর গ্রাহকদের কোন অসুবিধা হবে না।
মৌলভীবাজার জেলা সদর এক্সচেঞ্জসহ রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা এক্সচেঞ্জ এর দায়িত্বে থাকা একজন জুনিয়র এ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলার সবক’টি এক্সচেঞ্জে চরম লোকবল সংকট রয়েছে। দুইজন লাইনম্যান কমে যাওয়ায় কুলাউড়া এক্সচেঞ্জে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইন্টারনেটের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তবে কবে চালু হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
কুলাউড়া এক্সচেঞ্জের করুণ অবস্থা সম্পর্কে সিলেটের বিটিসিএল এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, সিলেট বিভাগে ৪৫টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও ৪টি গ্রোথ সেন্টার ছিল। গ্রোথ সেন্টারগুলো অনেক দিন থেকে বন্ধ। বিভাগের সব একচেঞ্জে জনবল সংকট বিদ্যমান। তিনি জানান, ২৯২ জনের স্থলে এখন ২২৬ জন কর্মরত আছেন। এক্সচেঞ্জে কবে ইন্টারনেন্ট ব্যবস্থা চালু হবে, এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এ কর্মকর্তা।
ঢাকার খিলগাঁও কার্যালয়ে কর্মরত বিটিসিএল এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুম হোসেন জানান, সিলেট বিভাগে এক্সচেঞ্জের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এগুলোকে এমওটিএন (মর্ডানাইজেশন টেলিকম নেটওর্য়াকের) আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে তার অধীনস্থ উপজেলা পর্যায়ে ৮ হাজারের স্থলে মাত্র ৮শ’ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
বিটিসিএল এর ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে লাইন রেন্ট ও ভ্যাট সহ বিল পরিশোধ করছেন তারা। অথচ বিনিময়ে কোন সার্ভিস পাচ্ছে না। প্রায়ই টেলিফোন বিকল থাকে। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চললেও আশানুরূপ কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য অনেক গ্রাহক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন।