১০ মার্চ ২০২১


ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে নিজ এলাকায় তোপের মুখে জায়গীরদার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কামরুল হুদা জায়গীরদার, সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক। এক সময় নিজ উপজেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি থাকাকালিন সময় থেকেই বিভিন্ন কারনে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির এই নেতা। সর্বশেষ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পান তিনি। এর পরও বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়তে চাইছে না তার।

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই তার স্বেচ্চাচারিতায় খোদ কমিটিরই একটি বড় অংশ প্রতিবাদ করে। আহবায়ক কমিটির ১০ জন সদস্যই তাকে ‘অযোগ্য আহবায়ক’ আখ্যাদিয়ে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কররেন তারা। এর পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সম্প্রতি সময় তার নিজ এলাকায় ইউনিয়ন কমিটি ঘোষনা ও স্থগিতের হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন নিজের এলাকাতেই তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

জানা যায়, সিলেট জেলা বিএনপিতে যত দিন যাচ্ছে তত বাড়ছে অসন্তোষ। জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের একক হটকারী ও গঠনতন্ত্র বিরোধী সিদ্ধান্ত, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে গ্রুপিং আর দলীয় নেতাকর্মীদের হেনস্তা করার কারনে যত দিন যাচ্ছে ক্রমশই জেলা কমিটির নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ আহবায়কের নিজ উপজেলা ও নিজ ইউনিয়নেই এখন তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নে।

জানা যায়, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি করার জন্য স্থানীয় সকল নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে নিজের অনুগত আব্দুর রশিদকে আহবায়ক করে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করেন। তখন পুরো উপজেলার নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শক্ত অবস্থান নিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি করার ঘোষনা দিলে ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়।

সর্বশেষ গত ৬ মার্চ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এই সভায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ২৭ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু জেলা বিএনপির আহবায়ক তার পছন্দমত দলের নিষ্ক্রিয় নেতাদের কমিটিতে স্থান দিতে না পারায় বেকে বসেন।

তিনি ৭ মার্চ গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ককে শোকজ ও ৬ ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান। এঘটনার পর পরই উপজেলা ৬টি ইউনিয়নে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোব্দ হয়ে উঠেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা জেলা বিএনপির আহবায়ককে বালাগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার উদোগ নেন। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা আপাদত এই সিদ্ধান্তটি স্থগিত রেখেছেন।

এদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোন ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত করার এখতিয়ার জেলা আহবায়কের নেই। এমনকি জেলা বিএনপিতে এধরনের কোন সিদ্ধান্তও হয়নি। শোকজ ও স্থগিত করার ঘোষনা একান্তই আহবায়কের ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে জেলা বিএনপির নূন্যতম কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ২৭ সদস্যের মধ্যে ১৫জন সদস্যের উপস্থিতিতে সর্বস্মতিক্রমে এবং জেলা বিএনপির প্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে ৬টি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানতে পেরেছি জেলা বিএনপির আহবায়ক আমাকে শোকজ করেছেন এবং ৬টি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত করেছেন। আমরা যা করেছি দলের গঠনতন্ত্রমোতাবেক করেছি এবং দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়েই কমিটি করা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহবায়কের এমন কর্মকান্ড আমাকে মর্মাহত করেছে। এমন কর্মকান্ড প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের উপর বিরুপ প্রভার পড়বে এবং আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রাম বাঁধাগ্রস্থ হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, জেলা বিএনপির কোন সভায় বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ককে শোকজ করার বিষয়ে বা ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত করার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টি আমার জানা নেই। এটি আহবায়কের একান্ত ব্যাক্তিগত ও নীতি বহির্ভূত সিদ্ধান্ত। এর সাথে জেলা বিএনপির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, জেলা বিএনপির কোন মিটিংয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ককে শোকজ করা এবং ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত করার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা বিএনপির আহবায়ক একাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এর সাথে জেলা বিএনপির কমিটির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি দলের হাইকমান্ডকে অবগত করা হয়েছে।

সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জেলা বিএনপির কোন সভায় হয়নি। তাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রশ্নই আসেনা। ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিই করে থাকে, এটাই নিয়ম। শোকজ ও কমিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জেলা বিএনপির আহবায়ক একা কখনো নিতে পারেন না।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, আহবায়কের একক ক্ষতাবলে আমি বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ককে শোকজ করে ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত করেছি। তার পরও জেলা কমিটির ৭/৮জন সদস্যকে বিষয়টি ফোনে অবগত করেছি। আহবায়ক নিজস্ব ক্ষমতাবলে যেকোন কমিটি স্থগিত করতে পারেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সাথে কথা বলতে একাধিকার কল এবং ফোনে এসএমএস করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন