৯ মার্চ ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : কানাইঘাট থানা থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলেন হারিছ চৌধুরী। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তারপরও তিনি মাঠের রাজনীতি ছেড়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রবেশ করেন।
২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তিনি প্রতাপের সঙ্গে হয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা। দাপটের সঙ্গে হাওয়া ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিএনপির সর্বোচ্চ মহল ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।
বিএনপির নেতারা বলছেন, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে ছেড়ে পালিয়ে যান হারিছ চৌধুরী। কথিত আছে, তখন তিনি সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জে অবস্থিত নানা বাড়িতে পালিয়ে যান। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তোলেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথাও জানান। কিন্তু নেতাকর্মীরা তাকে দেশে না ফিরতে পরামর্শ দেন। এরপর থেকে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোনাইন বলেন, ‘আমাদের কাছে হারিছ চৌধুরীর কোনো খোঁজ নেই। তিনি কোথায় আছেন, সেটাও জানি না। তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
হারিছ চৌধুরী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এছাড়া তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা, দুর্নীতিসহ প্রায় শতাধিক মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার কোনো খোঁজ পুলিশের কাছেও নেই।
কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে হারিছ চৌধুরীর কোনো খোঁজ নেই। আমি এখানে ১ জানুয়ারি যোগ দিয়েছি। তার বাড়ির কে কোথায় থাকে, সেটাও জানা নেই।’
সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট এলাকায় হারিছ চৌধুরীর বাড়িতে বর্তমানে থাকেন তার বড় ভাই কামাল চৌধুরী। হারিছ চৌধুরীর সম্পত্তির দেখভালও করেন তিনি। তবে, তার কাছেও ভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই বলে কাছে দাবি করেন।
কামাল চৌধুরী বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। কোথায় আছে, সেটাও আমরা জানি না।’
সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, হারিছ চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছেই সঠিক কোনো তথ্য নেই। কখনও শোনা যায়, তিনি ভারতে নানা বাড়িতে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। আবার কেউ বলেন, তিনি লন্ডনে আছেন। আবার অনেকের কাছে শোনা যায়, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। আসলে হারিছ চৌধুরী জীবিত নাকি মৃত, তা সিলেটের মানুষের কাছে আজও রহস্য।
সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হারিছ চৌধুরীর খোঁজ নেই। কোথায় আছেন, সেটা কেউ বলতে পারেন না। তার যারা আত্মীয়-স্বজন আছেন, তারাও কোনো খোঁজ জানেন না। অথবা তারা জানলেও হয়তো বলেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ২০১০-১২ সাল পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর যোগাযোগ ছিল। কিন্তু এরপর বিএনপির কোনো নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই বলে আমি জানি।