১ মার্চ ২০২১
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : চোখে প্রবাসের রঙ্গীন স্বপ্ন আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য প্রেরণা নিয়ে বিয়ানীবাজারসহ পূর্ব সিলেটের কয়েকটি উপজেলা থেকে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আমিরাতে ইতিমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন কয়েক সহস্রাধিক তরুণ-যুবক, যাওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছেন আরো কয়েক হাজার। ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ায় এমন জনস্রোতের ঢল নেমেছে বলে জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসীরা।
তবে সুযোগ আসলেও বেশীরভাগ যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হয় ইমিগ্রেশনে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আর একারণেই ভিজিট ভিসার টিকিট কাটা থেকে বিরত রয়েছে অনেক ট্রাভেলস।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশীদের জন্য কর্মী ভিসা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছরে বাংলাদেশ থেকে শ্রম ভিসায় কোনো নাগরিক আমিরাতে যেতে পারেননি। এদিকে দীর্ঘদিন সবধরনের ভিসা বন্ধ থাকার পর গত বছর থেকে আমিরাতে বাংলাদেশীদের জন্য ভিজিট ভিসা চালু হয়। ভ্রমণ ভিসায় আরব আমিরাতে গিয়ে বাংলাদেশীদের ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে কোম্পানির বা ইনভেস্টার/পার্টনার ভিসা লাগানোর সুযোগ থাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশী আমিরাতে পাড়ি জমাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত দেশ আমিরাতে হঠাৎ করে ভিজিট ভিসায় এতো মানুষ কেনো যাচ্ছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে আমিরাত প্রবাসী কমিউনিটি নেতা এম সুমন আহমদ জানান, ভ্রমণ ভিসায় এসে ভিসা পরিবর্তন করে ইনভেস্টর ও ওয়ার্ক ভিসায় পরিবর্তন করা যায়। এ সুবিধা দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণ ভিসায় শত শত যুবক তরুণ আমিরাতে আসছেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি ভালো প্রভাব পড়বে ফেলবে।
আমিরাত প্রবাসী ব্যবসায়ী সাইবুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন আমিরাতের ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ থাকার কারণে বাংলাদেশীরা আসতে পারেননি। করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশীদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার এক প্রকার উন্মুক্ত হয়। আমিরাত সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর ভিজিট ভিসায় আমিরাতে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে কোম্পানি ভিসা ও ব্যবসায়িক ভিসা লাগানো শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে বিয়ানীবাজারসহ আশেপাশের উপজেলার কয়েক সহস্র্রাধিক যুবক তরুণ আমিরাতে ভ্রমণ ভিসায় পাড়ি জমিয়েছেন স্থানীয় ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মোস্তফা আহমদ জানান, আমিরাতের এ সুযোগকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, তবে তিনি ভ্রমন ভিসায় যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেকটি এয়ারলাইন্সে বিমান ভাড়া প্রায় তিনগুন বাড়িয়েছে যা অনভিপ্রেত। তিনি এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট মো. আমান উদ্দিন বলেন, করোনাকালীন অনেক প্রবাসী দেশে এসে বেকার হয়ে পড়েন। তারাই মূলত: ভাগ্য পরিবর্তনে এখন আমিরাতমুখী, যা ভালো লক্ষণ। যেভাবে হোক প্রবাস থেকে দেশে রেমিট্যান্স আসলেই চলে। তবে আমিরাতে পৌঁছা শ্রমিকদের সেখানকার সব সুবিধা দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আরো তৎপর হওয়ার আহবান জানান তিনি।
এদিকে, গ্রাম-পাড়া থেকে অনেকটা উৎসবের আমেজে আমিরাতে যাওয়ার কারণে বিয়ানীবাজার থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে যাওয়া এনা পরিবহন যাত্রীর ভিড় সামলাতে দৈনিক আরো দুটি বাস বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিয়ানীবাজার এনা কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা জহরুল ইসলাম শিপন বলেন, গত এক মাস থেকে ঢাকাগামী যাত্রীর প্রচুর চাপ। প্রায় প্রতিদিনই দুই থেকে তিনটি অতিরিক্ত গাড়ি বিয়ানীবাজার থেকে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছি। তিনি জানান, বেশিরভাগ যাত্রী আমিরাতে যাওয়ার জন্য যাচ্ছেন।