২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১


সুনামগঞ্জে সংসার টিকিয়ে ফুল পেলেন ৫৪ দম্পতি

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাজার বদলে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে টিকল ৫৪ সংসার। স্ত্রীরা পেলেন আদালতের ফুলেল সংবর্ধনা। বিভক্ত সংসারে বড় হওয়ার আশংকার বদলে তাদের সন্তানরা পেলেন সুন্দর একটি জীবন।

সোমবার দুপুরে এ রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন। রায়ের পর পর এক উৎসবের আমেজ শুরু হয় আদালত প্রাঙ্গণেই। বিষাদ কিংবা সাজার বদলে উৎসবের শ্রষ্ঠা যখন স্বয়ং আদালত তখন আদালতকেও যেন এ আনন্দের অংশীদার হতে দেখা যায়।

যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে ৫৪ জন স্বামী এই রায়ের মাধ্যমে অব্যাহতি পেলেন একই সাথে স্বাভাবিক ভাবে সংসার করার সুযোগ পেলেন স্বামী-স্ত্রী।

দীর্ঘ দিন বিচার প্রক্রিয়া শেষে যুগান্তকারী রায় দেন বিচারক। মামলার হয়রানি ও সংসার এবং দম্পতিদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

প্রথমে তাদের স্বামীদের ভাল হওয়ার জন্য সুযোগ দেন আদালত। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে মিলিয়ে দেন আদালত। এতে করে দুই পক্ষই লাভবান হবেন এবং অনেক মামলাজট কমবে মনে করেন সুনামগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালত মনে করেন যে এই সব মামলার কারণে পরিবার গুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের একটি পরিবার ছিল সন্তানাদিও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ নানান কারণে পারিবারিক সহিংসতা শুরু হয়। যার ফলে বিচার প্রার্থী হয়ে তাদের স্ত্রীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে তারা অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে। তাই আদালত স্বামীদের ভাল হওয়ার শর্তে স্ত্রী সন্তানদের ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আদালতের নিজ উদ্যোগে রায় ঘোষণা হওয়ার পর দম্পতিদের ফুল এবং শিশুদের জন্য চকলেট প্রদান করে অভ্যর্থনা দেয়া হয়। মূলত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং পরিবাবারের বন্ধন অটুট রাখতে এই পদক্ষেপ নেন আদালত।

এছাড়া ১১টি মামলায় আপোষ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ১১জন স্বামীকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের ১জন ছাড়া সকল পলাতক রয়েছেন।

দণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নূরুল ইসলাম, মো. শামীম, নজরুল ইসলাম, শাহেদ চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম, ইমরান আহমদ, আল-আমিন, মো.সোহেল মিয়া, আল-আমিন, মইন উদ্দিন, রিপন মিয়া।

মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মইনপুর গ্রামের রোখশানা বেগম বলেন, আমাদের ২০১৯ সালে পারিবারিক ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করি। আজ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালত রায় দেন। আমাদের চার সন্তান রয়েছে। আমি অনেক কষ্ট করেছি মামলার জন্য, সব সময় আদালতে এসে হাজিরা দিতে হত। এখন মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে আমি স্বামীর সাথে ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তি বসবাস করতে পারব। এ রায়ে আমি খুশি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নান্টু রায় বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এর আগেও ৪৭ টি মামলার একই ভাবে দেন আদালত। এই রকম রায়ে আদালতে মামলা জট কমবে এবং মানুষ আদালতে ঘন ঘন হাজিরা দেয়া থেকে রক্ষা পাবে। এই রকম ভাবে দ্রুত মামলার রায় হলে বিচার প্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য ভাল দিক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন রায় ঘোষণাকালে বলেন, আগেও এই রকম রায় দেয়া হয়েছে। পরিবার গুলোকে বাঁচাতে এই ধরণের রায় দেয়া হয়েছে। পরিবারে ঝামেলা থাকবে অভাব থাকবে সব কিছু মানিয়ে চলতে হবে। যদি আবার কোনও ঝামেলা হলে আপনারা লিগ্যাল এইডে অভিযোগ দেবেনে সেখানে আপনারা মামলা ছাড়াই বিচারকের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারবেন। যদি কোনও জটিল ঝামেলা হয় তাহলে আপনারা আবার আদালতের কাছে আসবেন, আদালতের দরজা আপনাদের জন্য সব সময় খোলা।

শেয়ার করুন