২৬ অক্টোবর ২০১৭


মৌলভীবাজারে নেতৃত্বে পরিবর্তন চান আ.লীগের নেতাকর্মীরা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ এক কমিটি দিয়ে এক যুগ অতিবাহিত করলো। সময় মতো কাউন্সিল না হওয়ায় জেলার অনেক উদীয়মান প্রতিভা পিছিয়ে পড়ায় গুটি কয়েক নেতার হাতে দলের ক্ষমতা রয়েছে। যার ফলে জেলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

ইতিপূর্বে জেলা সম্মেলন হওয়ার জন্য গেল দুই বছরে কেন্দ্র একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেইসব তারিখ পেছানো হয়। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামী ২৮ অক্টোবর জেলা কাউন্সিল নির্ধারণ করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আহমদ হোসেন, সংসদ সদস্য ও জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ, জেলা সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব, এম এ রহিমসহ (সিআইপি) জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, ২০০৬ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ২১৩ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদকে জেলা সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার আহমদ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ৬ বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে এক যুগ ধরে জেলা আওয়ামী লীগ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদিকে দুই বার তারিখ ঘোষণা করে সম্মেলন আয়োজন না করায় তৃণমূলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তৃণমূলের নেতা শফি আহমদ সলমানসহ একাধিক জনের সাথে কথা হলে তারা বিবার্তাকে জানান, জেলা নেতৃত্বহীনতায় ভোগার কারণে উপজেলাগুলোতেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। জেলা কমিটি সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। জেলায় রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। তাদের দাবি অচিরেই সম্মেলনের মাধ্যমে ত্যাগী নেতাদের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে পুনর্গঠন করার।

কাউন্সিলে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন, বর্তমান জেলা সভাপতি ও সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ, সদস্য ও পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম (বিপিএম) ও সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি মো. কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি) জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মালিক তরফদার ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসুদ আহমদ।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মসুদ আহমদ জানান, ১২ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার পরেও আজ পর্যন্ত কোনো সাধারণ সভা ডাকা হয়নি। যার ফলে জেলা কমিটি বিভিন্ন গ্রুপে ও উপ-গ্রুপে বিভক্ত। তবে আমি আশাবাদী যে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ আরো সুসংগঠিত হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল জানান, আগামী নির্বাচনকে মাথায় রেখে সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠবান এবং আন্তরিক ব্যক্তিকে সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলে এ জেলায় নৌকার বিজয় নিশ্চিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি কামাল হোসেন জানান, বর্তমান কমিটির নেতারা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলাব্যাপী কার্যক্রম না করায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে এবং তারা আগামী সম্মেলনে পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জেলাব্যাপী দলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আমি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

এবিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিগত সময়ে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিগত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে আমরা অন্য কমিটির চেয়ে ভালো ফলাফল করেছি। আপনাদের গঠনতন্ত্রে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও বিগত ১২ বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো বিষয় নয়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আহমদ হোসেন জানান, আগামী ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাউন্সিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

(আজকের সিলেট/২৬ অক্টোবর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন