২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সৌরবিদ্যুৎ মানেই বাল্বের আলোয় ঘর আলোকিত করা নয়। সৌরবিদ্যুৎ মানেই পাখর বাতাস গায়ে লাগানো কিংবা মুঠোফোন চার্জ দেয়া নয়। সৌরবিদ্যুৎকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যা দিয়ে চলেব সেচ কাজ। সময় বাঁচবে। ফলবে সোনার ফসল। আর তা সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাটের দরিদ্র জনগোষ্টির দারিদ্রতা বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।
এমনটাই মনে করছেন কৃষিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খাল, বিল, পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কার্য পরিচালনা করে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৮৩ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব এছাড়া জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে জমি কৃষি উপযোগী হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকায় অনেক নদী ও খাল রয়েছে আর এগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার বা পুনঃখনন না করার ফলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুস্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালগুলো পুনঃখনন করা হলে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা সেচ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বর্ষা পরবর্তী মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর করবে। প্রকল্প এলাকায় অনেক পুকুর ও বিল রয়েছে যাহা পুনঃখনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচ ও মৎস্য চাষে ব্যবহার করা যাবে।
এতে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ওপর চাপ কমে যাবে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সেজন্য প্রকল্প এলাকায় ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হযেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মো. কামাল হোসেন জানান, সৌর বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য স্থাপিত প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ ছাড়াও সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের উৎপাদন বাড়বে যা খাদ্য স্বযংসম্পূর্ণতা অর্জন ধরে রাখাসহ দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদী।
বিএডিসি এর প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে শুধু বাতি, ফ্যান বা মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়া নয়, বিশ্বায়নের এযুগে সৌর শক্তি দিয়ে সেচ পাম্পও চালানো সম্ভব৷ গোয়াইনঘাটে স্থাপিত ৩টি সেচ মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ গ্যালন পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। রুস্তমপুর ইউনিয়নের ইস্থি, পাটনি, টেকনাগুল, খলামাদব এলাকায় সম্প্রতি রূপায়িত কৃষকদের ইরি মাঠে।