২৬ অক্টোবর ২০১৭


উন্নয়ন বঞ্চিত জৈন্তাপুর

শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর সিলেট জেলার একটি গুরুত্বপূর্ন উপজেলা এখানে রয়েছে খনিজ সম্পদ,পাথর কোয়ারী সহ বেশ কিছু চা-বাগান ও পর্যটন অঞ্চল। এখানকার রাজনৈতিক ইতিহাস ও বৈচিত্রময়। বহু সম্প্রদায়ের মানুষের অবাস্থল। বছরের প্রতিদিন সরকারী বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ বেড়াতে আসেন।

অতি গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা নিবার্হী অফিসার সদ্য যোগ দেয়া মৌরীন করিম কর্মস্থলের বাহিরে বিদেশ সফরে থাকায় প্রায় সময় তার অফিস কক্ষে তালা জুলিয়ে রাখা হত। এতে স্থানীয় সেবা গ্রহনকারী বাসিন্দাগণকে নানা হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নিবার্হী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি এখানে তেমন অফিস করেনি। ফলে পুরো উপজেলায় এক রকম প্রাণহীন অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটিও শূন্য রয়েছে। তবে সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে নতুন কর্মকর্তা কে পদায়ন করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ বেশীর ভাগ সময়ে সিলেট শহরে অবস্থান করেন। বিগত ২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ খালেদুর রহমান চলে যাওয়ার পর জৈন্তাপুর উপজেলার প্রশাসনিক অবস্থা অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে।

তবে বিগত বছরের জুন থেকে চলিত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ অনেক মেধাবী কর্মর্কতা ছিলেন। তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোগত ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। কিন্তু এক বছরের মাথায় তিনি চলে যাওয়াতে এবং নতুন মহিলা উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও শহর কেন্দ্রিক কর্মকর্তাদের অবস্থানের কারনে সময় মত অনেক দপ্তরের কাজ কর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মুলত: এখানকার রাজনৈতিক বিভাজনের ফলে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বিপরিত মূখী রাজনৈতিক বলেয় থাকায় সরকারী কর্মকর্তাগন সাধারণ মানুষকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কৌশলে সুযোগ গ্রহন করছে। বিষয়টি গভীর ভাবে অনুসন্ধান করার প্রযোজন রয়েছে।

কারন রাষ্ট্রের নিকট একজন নাগরিকের বহমাত্রিক সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা/কর্মচারী তাদের মেধা ও দক্ষতা কৌশলী আচরণ দিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করবেন এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী সিলেট তামাবিল হাইওয়ে মহা-সড়ক এবং দেশের ভৌগলিক অবস্থার কারনে জৈন্তাপুর উপজেলা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এখানে একজন দক্ষ মেধাবী কর্মর্কতা কে পদায়ন করা উচিত বলে অনেকই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আমাদের প্রত্যাশা রাষ্ট্রের পলিসি মেইকিংয়ে যারা রয়েছেন বিষয়টা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন । একটি উপজেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত করতে হলে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারী কর্মকর্তা পুলিশ প্রশাসন সহ সবার সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে করতে হয়। সম্পতি সময়ে আমরা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করেছি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাগণ একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে।

যা কখন্য কাম্য নেই। তবে কাল বিকেলে কিছু সময়ের জন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসার এখানে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। উপজেলার সামগ্রিক অবস্থা দেখে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে এখানে নিয়ন্ত্রণহীন এবং মেরুদন্ডহীন প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে। এভাবে একটি উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কি সম্ভব ?

 

(আজকের সিলেট/২৬ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন