২৯ জানুয়ারি ২০২১


জকিগঞ্জে বিদ্রুহীদের নিয়ে ‘বিপাকে’ আ. লীগ-বিএনপি

শেয়ার করুন

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ৮ জন। এরমধ্যে ৩ জনই আওয়ামী লীগের নেতা। আর দুজন বিএনপির। ফলে বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে রয়েছে প্রধান দুই দলই। আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই অনৈক্যের সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া অন্য তিন প্রার্থী।

শনিবার সীমান্তবর্তী এই পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে প্রচার প্রচারণা। এবার ভোট গ্রহণের অপেক্ষা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন (নৌকা)। খলিল উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার (ধানের শীষ)। ইকবাল এরআগে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। জকিগঞ্জে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টিও। লাঙল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন পৌর জাপার সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ (জগ) ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল আহাদ (নারিকেল গাছ)। আর বিএনপির বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা (চামচ)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী সংগঠন আল ইসলাহর পৌর সভাপতি হিফজুর রহমান (মোবাইল), ও সামাজিক সংগঠন সোনার বাংলা সমিতির সভাপতি জাফরুল ইসলাম (হ্যাঙ্গার)।

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে ফারুক আহমদ, আব্দুল আহাদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরাকে বহিস্কার করেছে তাদের দল। তবে বহিস্কৃত হয়েও নির্বাচনী মাঠ থেকে সরেননি এই তিনজন। প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে সরব ছিলেন তারা। ফলে বিপাকে পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনতি প্রার্থীদের। দুই বিদ্রোহীর কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীকে টপকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাই মূল লড়াইয়ে চলে আসতে পারেন বলে ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। এই দুই প্রার্থীরই রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক।

জকিগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার অন্তত ১৫ জন ভোটারের সাথে আলাপ করে এমন আভাস মিলেছে। তাদের মতে, নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন মোবাইল ফোন প্রতীকের আল ইসলাহ সমর্থিত প্রার্থী হিফজুর রহমানও। আল ইসলাহ ফুলতলী নামে পরিচিত প্রয়াত আলেম আব্দুল লতিফ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত সংগঠন। তার বাড়ি জকিগঞ্জে। ওই এলাকায় ফুলতলী প্রচুর অনুসারী রয়েছেন। এছাড়া ইসলামী বিভিন্ন দলের ভোটারদের ভোটও হিফজুরের বাক্সে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর বাইরে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন এই তিন প্রার্থী। প্রতীকের চাইতে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজই এখানে বেশি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া ধর্মীয় আবেগও প্রভাব ফেলবে নির্বাচনে।

জকিগঞ্জ পৌরসভার ভোটার রকিবুল ইসলাম বলেন, এখানকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পাশপাশি ব্যক্তি ইমেজ, পারাস্পারিক সম্পর্ক, ধর্মীয় অনুভূতি, অতীতের জনপ্রতিনিধি থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রম নানা কিছু বিবেচনা করে ভোটাররা ভোট প্রদান করেন। ফলে কেউই এখন পর্যন্ত স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই। দলীয় প্রার্থীর পাশপাশি স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থীও ভালো অবস্থানে আছেন। শেষ পর্যন্ত যে কেউ জয়ী হতে পারেন।

তবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থী। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশন নিয়েও সন্তুষ্ট তারা।

আর নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার শাদমান সাকীব। তিনি বলেন, ভোটের দিন পৌরসভার ৯ টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নয়টি মোবাইল টিম, পুলিশের দুটি স্টাইকিং ফোর্স, বিজিবির দুটি স্টাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের একটি স্টাইকিং ফোর্স ও দুটি ভ্রাম্যমান স্টাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া দুজন বিচারিক হাকিম মাঠে থাকবেন। কোনভাবেই নির্বাচন নিয়ে বির্তক তৈরীর সুযোগ থাকবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।

জকিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার ৩৩৮ জন। এখানে পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৯ ওয়ার্ডে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ৯জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শেয়ার করুন