২৬ অক্টোবর ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘জন্ম থেকে জ্বলছি নয়’; জন্ম থেকেই জ্বলা বন্ধ রয়েছে মহানগরের ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির। জন্মের ২১ বছর পর না জ্বলেই মৃত্যুমুখে পতিত হলো সিলেটের ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ১৯৯৬ সালে পৌরসভা থাকাবস্থায় ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় নগরীর ছয়টি ব্যস্ততম মোড়ে স্থাপন করা হয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানা পয়েন্টে বাতিগুলো লাগানো হয়। কয়েক মাস জ্বলেও ছিল বাতিগুলো।
কিন্তু কিছুদিন জ্বলার পর একে একে বন্ধ হয়ে যায় সিগন্যাল বাতিগুলো। বন্ধ হওয়ার পর থেকে কোনো মেরামত না করেই গত বছরের প্রথম দিকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সিগন্যাল বাতিগুলো। রাস্তা প্রশস্থকরণ ও আধুনিক বাতি লাগানোর জন্যই বাতিগুলো তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানান সিটি মেয়র।
নগরীতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাস্তার মোড়ে বসানো ট্রাফিক সিগন্যালে ব্যবহৃত লাল-হলুদ-সবুজ বাতির দেখা মিলছে না ২১ বছর ধরে। সে সময়ে নির্মিত এসব বাতিগুলো পরবর্তীকালে সচল করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নগরীর কয়েকটি স্থানে নির্মিত এসব সিগন্যাল বাতির স্মৃতি চিহ্নও এখন নেই। রাস্তা প্রশস্তকরণ করায় তুলে নেয়া হয়েছে এসব ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি।
মিউনিসিপ্যাল থেকে মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত সিলেট মহানগরীতে ট্রাফিক পুলিশের হাত উঁচিয়ে সংকেতই এখন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ভরসা। এর ফলে গুরত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে একাধিক ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি যানবাহন চালকরা অনেক সময় হাতের সিগন্যাল না দেখে যানজটের সৃষ্টি করেন। বাতি সচল করতে কোনো উদ্যোগ না থাকলেও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিসিক সূত্রমতে, পৌরসভা থাকাবস্থায় ১৯৯৬ সালে নির্মিত এসব সিগনাল বাতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কার্যকর করা যায়নি। একদিকে নগরীর পরিধি, অন্যদিকে দিনদিন যানবাহন বাড়তে থাকলেও পরবর্তীকালে বাতিগুলো সচলের উদ্যোগ নেয়নি সিসিক।
বিগত ২০১৩ সালের পূর্বপর্যন্ত তৎকালীন পৌরসভা ও পরবর্তিতে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরও বিভিন্ন বাজেটে ট্রাফিক সিগন্যালসহ রাস্তাঘাটের বাতি সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল কোটি কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থ বছরে (২০১৭-১৮) সালের বাজেটে নতুন করে ট্রাফিক সিগনাল স্থাপনে কোনো বরাদ্দ রাখেননি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাজেটে বরাদ্দ না দিলেও নতুন করে ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হবে। নগরীর সড়ক প্রশস্তকরণ, বিদ্যুৎ, ডিশলাইন, ইন্টারনেট ও অন্যান্য কেব্ল অপসারণ হলেই উন্নতমানের ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানা পয়েন্টে স্থাপিত ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির খুঁটিগুলোর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। নতুন করে সিগন্যাল বাতি স্থাপন না করায় বুঝার কোনো উপায় নেই যে, এসব স্থানে একসময় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটি দাঁড়িয়ে ছিল।
সিগন্যাল বাতি না থাকায় হাতের ইশরায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। এ ক্ষেত্রে হাতের সিগন্যাল অনেক সময় মানেন না চালকরা। অটোরিকশাচালক রতন চন্দ্র দাস বলেন, পয়েন্টে জ্যাম থাকলে সিগন্যাল বোঝা যায়না। বাতি থাকলে সমস্যা হতো না
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মো. রেজাউল করিম বলেন, সিগন্যাল না থাকায় ট্রাফিক পুলিশকে অনেক কষ্ট সহ্য করে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি বলেন, এক স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালন সম্ভব হয় না। সিগন্যাল হলে সবাই সে দিকে লক্ষ রাখবে। মেট্রোপলিটন সিটিতে ট্রাফিক সিগন্যাল খুবই জরুরি।
(আজকের সিলেট/২৬ অক্টোবর/ডি/এমকে/ঘ.)