৭ জানুয়ারি ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের পর এবার রদ-বদলসহ কমিটি থেকে বাতিল আতঙ্ক সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে। দলীয় নির্দেশনার পর এর আগে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠক করে কেন্দ্র। জেলার সাথে কেন্দ্রের ওই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়। একই ভাবে জেলার পর এবার মহানগর কমিটির সাথে শীঘ্রই বৈঠক হতে পারে। তবে বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে আতঙ্ক।
বিশেষ করে মহানগর সভাপতি এবং সম্পাদক প্রেরিত প্রস্তাবিত তালিকায় অনেকের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে একাধিক। অভিযোগের খরগ ছিল জেলার উপরও। গেল ৩১ ডিসেম্বর জেলার ১১ সদস্যের বাতিল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এবার মহানগরেও বিরাজ করছে একই আতঙ্ক।
দলের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, জেলার পর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ঢাকায় বৈঠক করা হচ্ছে। শীঘ্রই ঢাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে ৬ জানুয়ারি জেলার সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির (সাংগঠনিক টিম) সভা হওয়ার কথা থাকলেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে জেলা এবং মহানগরের সভাপতি, সম্পাদকবৃন্দকে নিয়ে শীঘ্রই এই সভাটি ঢাকায় একসাথে অনুষ্ঠিত হবে।
মহানগর সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদদ বলেন, কেন্দ্রের সাথে মিটিং বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সার্কুলার আসেনি। তবে, চলতি সপ্তাহে হয়তোবা এই সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ৬ জানুয়ারি মিটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে, মিটিং না হলেও কমিটি বিষয়ে আলোচনা প্রায় সম্পন্ন। শীঘ্রই কেন্দ্রের সাথে বৈঠক শেষে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত আসতে পারে।
দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, সভা বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাইনি।
জানা গেছে, ওই সভায় মহানগরের প্রস্তাবিত কমিটির যেসব নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং অভিযুক্ত অনেকেই কমিটি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় চারমাস আগে কেন্দ্রের কাছে জমা দেয়া হয়েছিল সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটি জমার পরই দেখা দেয় ক্ষোভ, অসন্তোষ। অভিযোগ ওঠে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া ও অবমূল্যায়নের। এ নিয়ে দলের বঞ্চিত ও অবমূল্যায়িত নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নালিশও করেন। ফলে আটকে যায় কমিটি অনুমোদন।
শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত কমিটিতে ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্র। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটি থেকে কেন্দ্র থেকে ১১ জনকে বাদ দিয়ে শূন্যপদে ত্যাগী ও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়দের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।