৩ জানুয়ারি ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘নগরীর বন্দরবাজারস্থ কোর্ট পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা সড়কে রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও লেগুনা চলাচল বন্ধ এবং রাস্তায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্ব করছি। এ বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। আমরা আরও ২-৩ দিন মানুষকে বুঝাবো, এরপর থেকে আইনানুগ অ্যাকশনে যাবো।’
রোববার বিকেলে বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে অভিযান পরিচলনাকালে এসব কথা বলেন মেয়র আরিফ।
এসময় মেয়র আরিফ আরও বলেন, ‘এ রাস্তায় শুধু রিকশা বন্ধ করলে তো হবে না। রিকশা বন্ধ করে যদি দেখা যায়, সবাই অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে রেখে দিয়েছেন- তবে আমাদের কষ্ট আর চেষ্টা সার্থক হবে না। তাই একটি যানজটমুক্ত স্বস্তিদায়ক নগরী গড়তে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই নিজ নিজ গাড়ি মার্কেটের নির্দিষ্ট পার্কিংয়ে রেখে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করছি।’
বছরের প্রথম দিন থেকে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত সড়কে রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও লেগুনা চলাচল বন্ধ হওয়ার কথা ছিলো। এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ আগে মাইকিং, সপ্তাহখানেক আগে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড স্থাপনসহ প্রচার-প্রচারণা আর কঠোর নির্দেশনা জারি করে সিলেট সিটি করপোরেশন।
কিন্তু প্রথম দুইদিন এ রাস্তায় রিকশাসহ নিষেধাজ্ঞার গাড়িগুলো চলাচল করতে দেখা যায়। তবে আজ রোববার সিসিক কর্তৃপক্ষের অভিযানের কারণে কোর্ট পয়েন্ট-চৌহাট্টা সড়কে আর সকাল থেকে চলাচল করতে পারেনি এসব গাড়ি।
এছাড়াও বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশেষ এই রাস্তায় নিজেই অভিযানে নামেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি এ সড়কে চলাচলরত ও দাঁড়িয়ে থাকা লেগুনা-রিকশা উচ্ছেদ করেন।
রবিবার সকাল থেকে দেখা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের দেয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে সিসিক। এর ফলে জিন্দাবাজার-বন্দরবাজার-চৌহাট্টা এলাকায় রিকশা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি। যাত্রীরা রিকশা নিয়ে এসব রাস্তা ব্যবহার করতে গেলে সিসিকের নিরাপত্তাকর্মীরা রিকশাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন।
এদিকে, গত দুইদিন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে এ বিষয়ে রাস্তায় দেখা না গেলে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযানে নামেন তিনি। পরে তাঁর নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চলে কোর্ট পয়েন্ট-চৌহাট্টা রাস্তায়। মেয়রের অভিযানে সহায়তা করেন সিলেট মহানগর পুলিশের সদস্যবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ এবং সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।