৫ জানুয়ারি ২০২১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভিতরে গৃহহীনদের জন্য ৪০টি ঘর নির্মাণ করছে সদর উপজেলা প্রশাসন। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে এ ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের গৃহহীন পরিবারের জন্য ওই জায়গায় ৪০টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। মোট ব্যয় হবে ৬৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার মাইজপাড়ায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভিতরে ৪০টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। ঘর থেকে নদীর দূরত্ব প্রায় ১৫ ফুট। এ সময় স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, গৃহীনিদের জন্য সরকারের এটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু আমরা আশঙ্কা করছি বন্যার স্রোতের সাথে হয়তো ঘর গুলো নদীতে ধসে পড়বে এবং বন্যা হলে ওই ঘরের চালের উপর দিয়ে পানি অতিবাহিত হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ওই জায়গা দিয়ে বাঁধ ভেঙ্গে পুরো মৌলভীবাজার শহর ৮ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। তৎকালীন সময়ে ভয়াবহ ওই বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল সরকারী অফিসের নথি-পত্র। ক্ষতি হয়েছিল কয়েক কোটি টাকার।
নদীর পারের স্থানীয় বাসিন্দা স্বরসতী বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে বাস করে আসছি। নদীর পানি অল্প বাড়লেই ওই জায়গায় উঠে যায়। বন্যা হলে তো ঘরের উপর দিয়ে পানি যাবে।
একই এলাকার কালন্তী বলেন, আমি দেখেছি বর্ষার সময় পানির স্রোতে অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙ্গে যায়। পানির শক্তির সাথে কারো পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
গাড়ি চালক দুলাল, দোকান মালিক জুয়েল, মিস্ত্রি রফিক মিয়া ও ব্যাংকার অমিত সহ অনেকেই বলেন, মনে হচ্ছে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর তীরে ৬০ বছর যাবত বসবাসকারী আফুরোন বলেন, প্রতি বছরই এখানে পানি উঠে। যার কারণে ওই ঘরগুলো গৃহহীনদের কোনো কাজে আসবে না।
পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতা নুরুল মোহাইমিন মিল্টন, সাংবাদিক রিপন দে সহ কয়েকজন বলেন, নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের ভিতরে ঘর নির্মাণ করা নদীর জন্য খুবই হুমকি। এটা কোনো অবস্থাতে ঠিক নয়।
সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আজাদুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সাথে কথা বলেই ওই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌর শহরের পাশে এ রকম জায়গা পাওয়া মুশকিল। যারা এখানে ঘর পাবে তারা অনেকটা সৌভাগ্যবান।
ওই জায়গা অল্প পানিতেই তলিয়ে যাবে ; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি গত বছর পানি উঠেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, নদীর বাঁধের ভিতরে ঘর নির্মাণের বিষয়ে আমি অবহিত নই। তবে নদীর বাঁধের ভিতরে ঘর করার কোনো সুযোগ নেই।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জেনেছি গতবছর ওই জায়গা পানি উঠেনি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খতিয়ানের জায়গা। তারপরেও আমরা ঘরের পাশে নদীর অংশে দেয়াল করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।