১৬ অক্টোবর ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর ফুটপাতের ১৭ দখলদারের নামে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও কোতোয়ালি পুলিশ।সোমবার বেলা ১১টায় সিলেটের চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির হয়ে ফুটপাতের দখলদারদের তালিকা দেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় অনুসারে দখলদারদের নাম সম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
আদালতে মেয়র আরিফুল হক বলেন, পবিত্র হজ পালনে দেশের বাইরে (সৌদি আরব) থাকায় প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে। তিনি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গত ১৩ এপ্রিল জেলা পরিষদে নাগরিক সমাবেশে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার ৬টি স্মারকের বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেন।
নাগরিক সমাবেশে অর্থমন্ত্রী ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পুলিশকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন। উচ্ছেদ না করতে পারার নেপথ্যে ১৭ দখলদারের নিয়ন্ত্রণ করার কথা উল্লেখ করা হয় আদালতে।
আদালত থেকে বেরিয়ে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তখন আদালত তাকে ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্ভয়ে কাজ করে যাওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কাজ চালিয়ে যান, ভয় পাবেন না, আদালত আপনাদের পাশে আছে। এছাড়া আদালতে পুলিশের তরফ থেকে ১৬ জনের নামে ও আরেকটি প্রতীকী নাম ব্যবহার করে দখলদারদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।’
তবে তালিকা সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি গৌছুল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সিসিকের পক্ষ থেকে ১৭ জনের নামোল্লেখ করে তালিকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হকার উচ্ছেদের স্বার্থে এ তালিকার নাম প্রকাশ করার জন্য আদালত থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন সকাল ১১টার দিকে তালিকা জমা দেন।
তিনি বলেন, সিলেট নগরীর রাস্তা-ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মেয়র ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৭ অক্টোবর মেয়র ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে শোকজ করেন সিলেটের চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো। আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও ফুটপাত দখলদারদের তালিকা জমা দিতে না পারায় ১৬ অক্টোবর স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখার জন্য বলা হয়।