১৯ ডিসেম্বর ২০২০
অতিথি প্রতিবেদক : শীত আসার পর থেকে সিলেটে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট জেলায় করোনায় প্রতিদিন গড়ে ১ জনের প্রাণহানি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার ২ জনের মৃত্যুসহ চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত এই ১৪ দিনে সিলেট জেলায় করোনাভাইরাসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, সিলেট জেলায় করোনা আক্রান্ত ৩১জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ১৪ জন ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রয়েছেন। তাদের অনেকেরই অবস্থা সংকটাপন্ন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল সিলেট জেলায় প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো: মঈন উদ্দিন। পরে ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। এরপর গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সিলেট জেলার ১৯৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বাকি সুনামগঞ্জ জেলার ২৫ জন, হবিগঞ্জ জেলার ১৬ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ২২জন।
করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবেলায় ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে কিছুদিন সিলেটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হয়। মাস্ক ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রে মাইকিং করা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবসময় মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানার উপর জোর দিয়ে আসছেন। শীতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টির উপর গুরাত্মারোপ করেছেন। অমান্যকারীদের জরিমানা করতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু সিলেটে মানুষ দিব্যি মাস্ক ছাড়া স্বাস্থ্য বিধি না মেনে চলাফেরা করছেন। শীত আসার পর দু-একদিন অভিযান চললেও এটা চলমান রাখা হয়নি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, শীতকালে এমনিতেই রোগ বালাই বেশী থাকে। সর্দি জ্বর ও ঠান্ডাজনিত অসুখ দেখা দেয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানা, অবাধে চলাফেরা ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
স্বাস্থ্য বিভাগের বুলেটিন অনুযায়ী, সিলেট জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ ১জন, ৬ তারিখ ২জন, ৮ তারিখ ১ জন, ১০ তারিখ ২জন, ১২ তারিখ ২জন, ১৩ তারিখ ২জন, ১৫ তারিখ ১জন, ১৭ তারিখ ১জন ও ১৮ তারিখ ২জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (এসওএমসিএইচ) ৪ জন ও সিলেট জেলার ১০ জন।
এছাড়া, বিভাগের অন্য তিন জেলায় কারো করোনা শনাক্ত হয়নি। এ পর্যন্ত চার জেলায় মোট ১৫,১৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৮,৮৮৯ জন, সুনামগঞ্জে ২,৫০২, হবিগঞ্জে ১,৯৩৬ ও মৌলভীবাজার জেলায় ১,৮৫৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় ৫৭ জন করোনামুুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিলেট জেলার ৫২ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ২জন, হবিগঞ্জ জেলায় ১ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ২ জন। সিলেট বিভাগের করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ১৪,০৫০ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৮,৩০১ জন, সুনামগঞ্জের ২,৪৪২, হবিগঞ্জে ১,৫৮২, মৌলভীবাজারের ১,৭২৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলার ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।