৯ ডিসেম্বর ২০২০


হবিগঞ্জে ‘হুমকির সম্মুখীন’ তিন বেইলী ব্রিজ

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ জেলা সদরের সাথে আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগ রক্ষাকারী তিনটি পুরাতন বেইলী ব্রীজ যানবাহনের অত্যধিক চাপ, বন্যা ও প্রাকৃতিক কারণে যে কোন সময় ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। ব্রীজগুলো হচ্ছে, হবিগঞ্জ শহরের উত্তরপ্রান্তে চৌধুরী বাজারের নিকটে ৮৫ মিটার দীর্ঘ খোয়াই নদীর উপর বেইলী ব্রীজ, এর পূর্ব দিকে ২৬০ ফুট দীর্ঘ কিবরিয়া বেইলী ব্রীজ এবং হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কে ১৫০ মিটার দীর্ঘ বালিখাল নদীর উপর বেইলী ব্রীজ।

জানা যায়, পুরাতন এই ব্রীজগুলোর স্টীল প্লেট, গার্ড লক, স্ক্রু ইত্যাদি স্থানচ্যুত হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ব্রীজের উপর দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
প্রায় দুই দশক পূর্বে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ-শেরপুর সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়ক হিসেবে উন্নয়ন করায় উল্লেখিত ব্রীজগুলোর গুরুত্ব অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। একই সাথে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলের পরিমাণও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

খোয়াই ব্রীজের উপর চাপ হ্রাসের লক্ষ্যে চৌধুরী বাজার বেইলী ব্রীজের পশ্চিম পাশে কামড়াপুরে ৩৬০ ফুট দীর্ঘ মেজর জেনারেল এম.এ রব ব্রীজ এবং পূর্ব পাশে খোয়াই মুখ নামক স্থানে সাবেক অর্থমন্ত্রী এস.এ.এম.এস কিবরিয়া স্মরণে ২৬০ ফুট দীর্ঘ কিবরিয়া ব্রীজ নির্মিত হয়। তবে, বেশিরভাগ যানবাহন ও জনসাধারণ চৌধুরী বাজার এলাকায় পুরাতন খোয়াই বেইলী ব্রীজ ব্যবহার করেন।

১৯৯৯ সালে বানিয়াচঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধানকালে এই ব্রীজটির উপর দিয়ে ইউনিকল কোম্পানির ভারী যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে পাকা পিলারের পাশে অতিরিক্ত লোহার খুঁটি লাগানো হয়। বর্তমানে এ সকল খুঁটি স্থানচ্যুত ও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় মূল ব্রীজটি হুমকির সম্মুখিন।

অভিযোগে প্রকাশ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গোপলার বাজার টোল প্লাজায় ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ভারী ট্রাকগুলো শেরপুর-নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করায় পুরাতন বেইলী ব্রীজগুলোর উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্রীজগুলো প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এছাড়া জাইকার অর্থায়নে উল্লেখিত তিনটি বেইলী ব্রীজের স্থলে তিনটি পাকা ব্রীজ নির্মাণের ব্যাপারে একটি তালিকা ঢাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় উপযুক্ত মূল্যায়নের পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন