৬ ডিসেম্বর ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের এক ছাত্রীকে বারবার ফোন দিয়ে নোংরা ভাষায় উত্তপ্ত করার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার পর এনিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
শনিবার বিকেলে এমসি কলেজের শিক্ষার্থীদের ধারা পরিচালিত একটি ফেসবুক গ্রুপে মাহরিন ঝুমু নামে এক শিক্ষার্থী একটা পোস্ট করেন। যেখানে ঐ শিক্ষার্থী লিখেন, আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে আমরা তিন বান্ধবী একাডেমিক কিছু দরকারে এমসি কলেজে যাই। ভেতরে ঢুকার আগে গেইটে আমাদের নাম, ডিপার্ট্মেন্টের নাম ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে এন্ট্রি করে যাই। পরবর্তীতে বাসায় এলে অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে ফোন আসে, প্রথমে আমি রিসিভ করিনি। পরে আবার নোংরা ভাষায় মেসেজ দেয়,কিন্তু আমি রেসপন্স করিনি।
পরে বিকেল ৪ টার দিকে আবারও ফোন দিলে রিসিভ করে পরিচয় জিজ্ঞেস করলে, কলদাতা বলেন, আপনার প্রিয়জন আমি। পরে নাম্বার কোথায় পেলেন, ঐ শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নে, কলদাতা বলে, এমসি কলেজে তোমরা তিন বান্ধবী গিয়ে যে খাতায় নাম্বার দিয়েছিলেন, এসময় আমি ছিলাম। পরে আপত্তিকর আরও কথাবার্তা শুরু করলে ঐ শিক্ষার্থী ফোন কেটে দেন। এমসি কলেজের একটা গ্রুপে এই পোস্টটা করা হলে, মুহূর্তের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে অনেকে নাম্বার নেওয়ার বিষয়টাতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এটা বন্ধ করা হউক।
বিষয়টা সম্পর্কে জানতে ঐ শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, এমসি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সে পড়া মাহরিন ঝুমু জানান, কলেজে ঢুকার আগে আমরা যখন নাম, নাম্বার এন্ট্রি করি, তখন সেখানে গার্ডসহ কয়েকজন ছিলেন। তাদেরকে আমি চিনি না।এখান থেকেই কেউ একজন নাম্বার নিয়ে আমিসহ সাথে থাকা আমার দুই বন্ধুকে বিরক্ত করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে। মাহরিন বলেন, আমরা তিনজন, কখন, কয়টার সময় একসাথে কলেজে যাই, কখন খাতায় নাম্বার দেই সব ঐ ব্যক্তি কি করে জানবেন? মাহরিন জানান, +8801717388952 এই নাম্বার থেকে কল দেওয়া এই অজ্ঞাত ব্যক্তি স্বীকারও করেছেন, এন্ট্রি খাতা থেকেই নাম্বার সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সালেহ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা আমি শুনেছি।মূল ঘটনা কি হয়েছে? কে কার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন করল, এসব আমরা খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আর কলেজে ডুকার ক্ষেত্রে নাম্বার দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, আজ থেকে নাম্বার দেওয়ার বিষয়টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কলেজে ডুকতে কোন শিক্ষার্থীকে আর নাম্বার দিতে হবে না।