২৭ মার্চ ২০২১


অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি ‘আন্দু লেক’

শেয়ার করুন

কানাইঘাট প্রতিনিধি : অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমির নাম আন্দু লেক। প্রাকৃতির অকৃপণ রূপ-লাবণ্যে ঘেরা এই আন্দু লেক পর্যটন শিল্পে এনে দিতে পারে অনেক সম্ভাবনাময় কিছু।

স্থানীয় লোকমুখে শুনা যায়, আন্দু গাঙ্গকে পুরাতন সুরমা বলে অভিহিত করা হয়। সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ ইউপি ও ৩নং দিঘীর পার পূর্ব ইউপি এবং ৪নং সাতঁবাক ইউপি মধ্যে স্হানল এই আন্দু লেকটির অবস্থান। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান স্থানটিতে যেমন উপভোগ করা যায় প্রকৃতির মোহনীয় দৃশ্য। আর অন্যদিকে লেকের মাঝে ছড়িয়ে থাকা স্বচ্ছ পানির সমারোহ।

এ লেকে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম বলে এখানে নানা প্রজাতির পাখির নির্বিঘ্ন বিচরণ চোখে পড়ে।লেকটি ১৯৪৭ সালের পূর্বে এটি সুরমা নদী ছিলো। প্রায় ৬ কিলোমিটার লেকটি যেখানে শুরু হয়েছিল তার এক কিলোমিটার বিপরীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। বৃটিশ সরকার এই এলাকাকে নদীভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং নদীর গতিপথ সোজা করার জন্য লেকটির দু পাশে মাটি ভরাট করে সুরমা নদী থেকে এ অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর এঅংশের নাম হয় পুরাতন সুরমা বা আন্দু গাঙ্গ। কানাইঘাটে অবস্থিত এই লেকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে লেকের পানি সব মৌসুমে সচ্ছ থাকে। লেকের ধারে গড়ে উঠেছে দ্বীপের মতো ছোট ছোট দুটি চর।

সিলেট -জকিগঞ্জ রোডের জুলাই নামক স্থান থেকে লেক পর্যন্ত একট সচ্ছ পানির খাল রয়েছে।লেকের চার পাশে ছোট ছোট গ্রাম আছে।শীত মৌসুমে অনেক প্রকার দেশী ও অতিথি পাখির দেখা মেলে এই লেকে। ডিবির হাওয়ের চেয়ে শতগুণ সুন্দর শাপলা ফুটে এই লেকে। তখন ছোট ছোট নৌকায় করে উপভোগ করা যায় লেকে ফুটে উটা শাপলার সমারোহ।লেকে প্রায় শত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অনেক পছন্দের খাবার ভেট, সিংগাইর এই লেকে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। কানাইঘাটে সূর্যাস্ত দৃশ্য অবলোকনের জন্য এর চেয়ে উপযোগী স্থান আর বুঝি নেই। লেকের পাশ গেসে ৪টি জামে মসজিদ, একটি হাট বাজার ও জুলাই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

প্রকৃতির এই লীলায় কানাইঘাট তথা সিলেটের কর্মব্যস্ত মানুষেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য ছুটে আসতে পারেন কানাইঘাটের এই আন্দু লেকে। লেকের ও লেকের পাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করবে। লেকের এই বিশালতায় পর্যটকরা পাবেন অন্যরকম অনুভূতি।সংরক্ষিত এই লেকটি টুরিজম হিসেবে গড়ে তুলতে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগে লেকের পাশে কয়েকটি গোলঘরসহ ৬০ ফুট মিটার উচ্চতার একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা সময়ের দাবি।

যাতায়াত
সিলেট থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সিলেট জকিগঞ্জ রোডের বাংলা বাজার নামক স্থানে নেমে জনপ্রতি ১০টাকা ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশা করে ভবানিগঞ্জ বাজার যেতে হবে,ভবানিগঞ্জ বাজারের পাশেই অন্দু লেক।অথবা সিলেট জকিগঞ্জ রোডের জুলাইর ব্রীজ বা ধনমাইরমাটি গ্রামের রাস্তায় নেমে হেটে যেতে পারবেন বা সড়কের বাজার নেমে ১০টাকা ভাড়ায় লেগুনা বা সিএনজি অটোরিকশা ধরে লন্তির মাটি স্ট্যান্ডে যেতে হবে,স্ট্যান্ডের পাশেই আন্দু লেক।

যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক এখানে অনেক ভালো।লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা মাধ্যমে এটাকে পর্যটন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করা গেলে সিলেটের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো কানাইঘাটের আন্দু লেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে পর্যটকদের কাছে। এবং লেকটি আস্তে-আস্তে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেবে।

শেয়ার করুন