৩ ডিসেম্বর ২০২০
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া : সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আলােচিত তরুণী গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ ক্যাডারসহ আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সংশ্লিস্ট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। সম্প্রতি ডিএনএ রিপাের্ট পুলিশের হাতে আসার পরই চার্জশিট সম্পূর্ণ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এসএমপির উপ-কমিশনার সােহেল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চার্জশিটে মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামী ও এ ঘটনায় গ্রেফতাের আরাে দুইজনকে অর্ন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।এরমধ্যে এই ধর্ষণ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার ক্যাডারের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে ডিএনএ টেস্টে। এই চার ধর্ষক হলাে- সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ (২১)। ছাত্রাবাসের আঙ্গিনায় স্বামীকে আটকে রেখে প্রাইভেট কারের ভেতর ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী বাদি হয়ে মহানগরের শাহপরান থানায় মামলা করেন। ধর্ষণের পর ওই নির্যাতিতা গৃহবধূ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে তিন দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।
এদিকে, মামলা দায়েরের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম এবং সন্দেহভাজন আসামি মিসবাউর রহমান ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিন নামের আরও দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর আটজন আসামিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা। জবানবন্দিতে প্রধান আসামি সাইফুর, তারেক, শাহ মাহবুবুর ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তা করার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।