১৯ এপ্রিল ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়নে সিলেটের ১৪ টি পয়েন্টে বাঁশ দিয়ে বেড়া (ব্যারিকেড) দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। যার মধ্যে নগরের মধ্যে ৮টি পয়েন্ট রয়েছে বাকি ৬টি পয়েন্ট নগরের বাইরের এলাকাগুলোতে।
সোমবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এই বেড়া দেখা যায়।
যে ১৪ পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দিয়ে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সেই সড়কগুলো হলো- আম্বরখানা, বন্দরবাজার, টিলাগড়, মদিনামার্কেট, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, অতিরবাড়ি, শ্রীরামপুর বাইপাস, পারাইর চক, বটেশ্বর, এয়ারপোর্ট রোড, রিকাবীবাজার, লামাবাজার, জিন্দাবাজার ও কাজীর বাজার সেতুর দক্ষিণ পার্শ্ব।
আম্বরখানা, মদিনামার্কেট,রিকাবীবাজার ও লামাবাজার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একদিকে বাঁশ দিয়ে আটকানো সড়ক। যাতে একপ্রান্তের গাড়ি অন্যপ্রান্তে যেতে না পারে। তবে এক পাশে একটু ফাকা রাখা হয়েছে, সেখান দিয়ে জরুরী সেবার গাড়িগুলোকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এসকল চেকপোস্টে অননুমোদিত প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ পায়ে হাঁটা মানুষদের জেরা মুখে পড়তে হচ্ছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারছেন না।
নগর ঘুরে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সিলেটের প্রবেশদ্বার হুমায়ুন রশিদ চত্বর, অতিরবাড়ি, শ্রীরামপুর বাইপাস, পারাইরচক, বটেশ্বর, এয়ারপোর্ট সড়ক, কাজিরবাজার সেতুর দক্ষিণ পার্শ্ব মারকাজ পয়েন্টে, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, টিলাগড়, মদিনামার্কেট, লামাবাজার, জিন্দাবাজার ও রিকাবীবাজারে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তাতে চৌকি বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক সদস্যরা। অনেকে অপ্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে বের হলে তাদের ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে। এসব তল্লাশি চৌকিতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন, রিকশারোহী, মোটরসাইকেল চালকসহ হাঁটা মানুষদেরও পুলিশের জেরা মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কারণ ব্যতিরেকে এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের এডিসি জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, পুলিশ সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে কাজ করছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বুধবার থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু লকডাউনের শুরু থেকেই দেখা গেছে অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। তাই লকডাউন কার্যকর করতে সিলেটের সড়কের ১৪টি পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। এতে কেউ চাইলেই হুট করে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না।
তিনি বলেন, গত বুধবার লকডাউনের শুরু থেকেই দেখা গেছে অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। লকডাউন মানার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে প্রবণতা কম। এ কারণে সোমবার দুপুর থেকে লকডাউন কার্যকর করতে সিলেটের ছয়টি প্রবেশদ্বার ও নগরের আটটি পয়েন্টে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। যারা নানা অজুহাতে বের হচ্ছেন তাদের আটকানো হচ্ছে। একান্ত জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অন্যদের যানবাহন আটকানো হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ। প্রতিটি বেড়ার সামনেই পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। মুভমেন্ট পাসে অনুমোদিত গাড়িগুলো ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যথাযথভাবে যারা প্রমাণ দিতে পারছেন না তাদের গাড়িগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।