১৬ নভেম্বর ২০২০


প্রবাসীদের ‘ভিআইপি’ মর্যাদা দেয়া হউক

শেয়ার করুন

আজিজুল আম্বিয়া : শুরুটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে করি। আমি যখন লন্ডনে একটি পরিবারের সাথে একটি কক্ষ বাড়া নিলাম, তাদেরকে নিয়মিত বাড়া পরিশোধ করছি। কিন্তু যিনি পুরো বাড়িটা বাড়া নিয়েছেন তিনি কিন্তু কিভাবে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন তিনি নিজেই জানেন না।

তিনি বলছেন- আপনি ঐ জিনিসটা ভাল করে পরিষ্কার করে রাখবেন, আপনি এই সময় থেকে এই সময়ের মধ্যে আপনার কাজ শেষ করবেন। আসলে কিন্তু এই বাড়িটার মালিক ও যে আমি এটা তিনি ভুলে গেছেন। মুলত এখান থেকে শুরু হয় যে চিন্তা তাহলো আমি পরাধীন হয়ে রইলাম। তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম একা বাড়ি বাড়া নেব, এবং তা’ই করলাম। এরপর আমি আমার মত করে ঘুম থেকে উঠি, দরজা খুলতে শব্দ হলে আর অসুবিধা হয়না। তাঁর মানে মনে মনে আমি স্বাধীন, আর এটাই একতা অনিয়মের বিজয়।

এবার ফিরি দেশ স্বাধীন পূর্ববর্তী অবস্তা নিয়ে। দেশ আমাদের, কিন্তু চাকরির সুবিধা ভোগ করবে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। ব্যাংকের টাকা পূর্ব পাকিস্তানের আ চলে যাবে পশ্চিম পাকিস্তান। মায়ের ভাষা বাংলা, না সরকার চাহিল পূর্ব পাকিস্তানে বাংলার পরিবর্তে উর্দু হবে রাষ্ট্র ভাষা, এই যে চাপিয়ে দেয়া এটাই মানুষকে বাধ্য করে নতুন একটি পথ খুঁজতে আর তাঁর নাম হচ্ছে স্বাধীনতা।

১৯৫২ সাল প্রথম থেকেই শুরু হয় ভাষা আন্দোল। আমরা, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করলাম নিজের ভাষাকে। সে সংগ্রাম যে কতটা যৌক্তিক ছিল তা বুজিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দিয়ে। তারপর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন। ৭১ এর ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালীর কথা, বাঙ্গালীর চিন্তা পোঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গুষ্টির কাছে। আর মূলত এ থেকেই শুরু স্বাধীনতা সংগ্রামের।

২৫ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার পূর্বে স্বাধীনতার ঘোষনা লিখে যান। পরবর্তীতে তা আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হান্নান ঘোষনা দিলেও, সামরিক সাপোর্ট দরকার ছিল তাই মেজর জিয়াউর রহমানকে দিয়ে আবার ২৭ শে মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা করান কৌঁশলী বাঙ্গালীরা। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান এর পক্ষ থেকে ঘোসনা দেন। ৯ মাস সংগ্রামের পরে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙ্গালিরা।

স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী শহীদ হন, ইজ্জত হারান দুই লক্ষ মা-বোন। পক্ষান্তরে স্বাধীনতা শব্দটি এভাবেই আমাদের হল। আর আমরা এখন নিজস্ব দেশ, নিজস্ব পতাকা নিয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল একটি জাতি বলা যায়। আজকে আমরা পাকিস্তানকে সহ অনেক দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্বের কাছে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছি। এ সবের পিছনে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা বিশাল ভূমিকা রাখছেন। তাই সময়ের দাবি প্রবাসীদের ভিআইপি মর্যাদা দেয়ার।

সংশ্লিষ্টদের বুঝতে- হবে ৬ দফা থেকে এক দফা হয়ে যায় যখন, তখন মানুষ স্বোচ্ছার হয়। আর প্রবাসীরা এখন অনেক সচেতন তাদের দাবির ব্যাপারে, তাই সরকারকে বলছি প্রবাসীদের কথা আপনাদের মনে রেখে কাজ করা উচিত।

(লেখক : বৃটেন প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- আজকের সিলেট।)

শেয়ার করুন