২৫ জুন ২০২৩
খলিলুর রহমান : আগামী বৃহস্পতিবার মুসলিম উম্মাহ’র দ্বিতীয় বৃহত্তর উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবাণীর ঈদ। এই ঈদে মুসলিমরা হালাল পশু কোরবাণীর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার পশুত্বকে জবাই করবে। দেহ ও মানস রাজ্যে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করবে পবিত্র আত্মার। আল্লাহর চরম নৈকট্য ও পরম সান্নিধ্য লাভের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মহোৎসব এই পবিত্র ঈদুল আযহা।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের দেশের মুসলিম নামধারী একদল মানুষ মহাত্যাগের এ ঈদকে ‘মহাঅর্জ’ বানিয়ে তাদের আখের গোছাতে শুরু করে। অবৈধ অর্থবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির উৎসব হিসেবে ঈদুল আযহাকে পালন করে তারা। বাড়িয়ে দেয় ঈদোৎসব পালনের সবসামগ্রীর দাম। বাড়িয়ে দেয় কোরবাণীর পশুর মূল্য। রাস্তায় রাস্তায় বসিয়ে চাঁদাবাজির অবৈধ পশুর হাট।
প্রতিবছর দেখা যায় সিলেট নগরের প্রতিটি পয়েন্টে অবৈধ পশুর হাট বসিয়ে জোরপূর্বক টোল আদায় করে হারাম টাকা অর্জন করতে থাকে একদল মানুষ। এতে করে মহাত্যাগের কোরবাণীও নষ্ট করে দেয় তারা। কোরবাণী এমন একটি পশু যেটা একেবারে নিখুত হবে। যেটার মধ্যে অবৈধ বা হারাম লেনে-দেনের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। কিন্তু অবৈধ হাট বসিয়ে চাঁদাবাজরা পশুর যে হাসিল আদায় করে, এবং ক্রেতারা যেটা দিতে বাধ্য হয়, যেটা একেবারে হারাম ও অবৈধ। এই হারাম বা চাঁদা দিয়ে পশু কিনে কোরবাণী দিলে কোরবানী হবে মূল্যহীন, আল্লাহর নৈকট্যহনি। গোশত খাওয়া হালাল হলেও এতে কোরবাণীর মূল পবিত্রতা ও মহত্ব থাকবেনা।
কিন্তু সাধারণ মানুষের করার কিছু নেই। চাঁদাবাজ রাজনৈতিক ক্যাডাররা রাস্তায় রাস্তায় মাইক বাজিয়ে কথিত “বিরাট গরুছাগলের হাট” নামে অবৈধ ও বেআইনী পশুরহাট বসিয়ে দেয়। তারা তাদের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বৈধ হাটে নিয়ে যাওয়া গরু ছাগলগুলো জোর পূর্বক রাস্তায় আটকিয়ে তাদের অবৈধ হাটে বিক্রি করতে বাধ্য করে।
সিলেট নগরের উত্তর ও দক্ষিণ সুরমা এলাকা জুড়ে শতাধিক এমন অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়ে থাকে । পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজ ক্যাডাররা এ সব অবৈধ হাট বসিয়ে থাকে। ফলে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা পথিমধ্যে কেড়ে নেয় রাষ্ট্রের প্রাপ্য হক। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি ইমাম মুআয্যিন আলেম ওলামা ও ধর্মীয় নেতারাও পালনে করেন সম্পূর্ণ নিরব ভূমিকা । অথচ অবৈধ এ ‘হাসিল’ আদায়ের সাথে কোরবাণীর কুরবত তথা আলআহর নৈকট্যের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তারা সেটা জেনেও না জানার ভান করে থাকেন পার্থিব হালুয়া-রুটি হাসিলের স্বার্থে। অথচ প্রতিবছর জেলা প্রশাসন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে জেলা ও নগর জুড়ে বৈধ পশুর হাটের সংখ্যা ও তালিকা ঘোষনা করে থাকে। এ তালিকার বাইরে হাট বসানো যেমন অবৈধ হারাম, তেমনি এসব অবৈধ হাট থেকে গরু-ছাগল কিনে কোরবাণী দিলে তা আদায় হয় না। যদিও জবাই করা হালাল পশুর গোশত খাওয়া জায়েয।
এছাড়া এসব অবৈধ হাট বসানো নিয়ে মারামারি ও রক্তারক্তি হয়ে থাকে, যা সম্পূর্ণ ফেতনার শামিল। গত দুবছর আগে সিলেট নগরের পাঠানটুলাসহ একাধিক পয়েন্টে অবৈধ হাট বসানো ও অবৈধ পশুর হাট দখল নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। চলতি বছরও ২৩ জুন শুক্রবার পশুর হাটের দখল নিয়ে নগরের মাছিমপুরে দু ’পক্ষে মারামারি ও সংঘর্ষে ৫জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সিলেট জেলা প্রশাসন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকয় ৪৫টি কোরবানির পশুরহাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈধ । এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭টি এবং জেলায় ৩৮টি।
রোববার (২৫ জুন) বিকেলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।
তিনি জানান, সিলেট মহানগরে ৭টি এবং জেলায় ৩৮ টি পশুরহাটের অনুমদন দেয়া হয়েছে। এর বাহিরে কোথাও কোরবানির পশুরহাট বসার অনুমতি নেই। কোথাও অবৈধভাবে হাট বসালে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।