৩১ অক্টোবর ২০২০


বাড়িভাড়া নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’

শেয়ার করুন

বাড়িভাড়া নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ বন্ধ হয়নি। দেশের প্রায় সব শহরেই বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতির বালাই নেই। বাড়িওয়ালারা নিজেদের খুশিমতো ভাড়া নির্ধারণ করছে। ভাড়া বৃদ্ধিও করছে তারা যখন তখন। কখনও কোন ভাড়াটিয়া বদল হলে সেই সুযোগে ভাড়া বাড়ানো হয় একদফা। অনেক ক্ষেত্রে বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যে কারণে পাঁচ বছর আগে যে বাসার ভাড়া ছিলো ১৫ হাজার টাকা এখন তা ২০/২৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন মানা হয় না। আইনের আশ্রয় নিয়ে ভাড়ার বিষয়টি সুরাহার প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় ভাড়াটিয়ারা আইনের দিকে যায় না। ফলে অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া ও বৃদ্ধির বিষয়টি সুরাহা হচ্ছে না।
দেশের বেশির ভাগ মানুষেরই নিজস্ব আবাসন নেই। তাদেরকে থাকতে হয় অন্যের বাড়িতে ভাড়া দিয়ে। আবার অনেকের নিজস্ব আবাসন থাকা সত্ত্বেও চাকরি কিংবা ব্যবসার সুবিধার জন্য থাকতে হচ্ছে অন্যত্র ভাড়া বাড়িতে। সেই হিসেবে জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই বছরের পর বছর থাকছে ভাড়া বাড়িতে। কিন্তু এদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে, বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ চরমে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে অনেকেই থাকছে ভাড়া বাসায়। আর জরিপের তথ্য হচ্ছে সীমিত আয়ের এইসব পরিবারের মাসিক আয়ের আশি ভাগই চলে যায় বাসাভাড়া দিতে। যে কারণে তাদের চরম দুর্ভোগেই কাটে সারা মাস। কারণ ভাড়াটিয়া জনগোষ্ঠী’র আয়ের তুলনায় বাসাভাড়া অত্যধিক। জানা গেছে, দেশের বড় বড় শহরগুলোতে গত ২৫ বছরে বাড়িভাড়া বেড়েছে চারশ’ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে দু’শ শতাংশ। অথচ এই সময়ে সরকারি চাকরিজীবি ছাড়া অন্যকারও আয়-উপার্জন বাড়েনি। যে কারণে মানুষের কষ্ট শুধুই বাড়ছে। অথচ তারা কোথাও ফরিয়াদ জানাতে পারছে না।
বাড়িভাড়ার ব্যাপারে কার্যকর কোন আইন নেই। যা-ও আছে তা সময়োপযোগী নয়। সর্বোপরি আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের একটা স্বস্তিদায়ক জীবন উপহার দেয়ার মহৎ উদ্দেশ্যটিই নেই সরকারের। সুতরাং যতোই আহাজারি করুক ভাড়াটিয়ারা, কোন লাভ হবে না। তবে এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনটিকে সহজ করলে কিছুটা প্রতিকার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এ ব্যাপারে হাইকোর্টেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে। আইন বাস্তবায়নে একটি ম্যাকানিজম প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে। আর এই ম্যাকানিজমের সাথে অর্থাৎ বিচারক প্যানেলে ভাড়াটিয়াদের প্রতিনিধি রাখা যেতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নড়ে চড়ে বসবে বলেই আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন