২২ অক্টোবর ২০২০
নিত্যপণ্যের বাজার এখন অস্থির। দাম বাড়ছে প্রতিদিনই প্রায় সব ধরনের পণ্যের। দিশেহারা মানুষ। দরিদ্র কিংবা মধ্যবিত্ত কেউই স্বস্থিতে নেই। মাস কয়েক আগে যখন করোনা মহামারির কারণে বেসামাল অবস্থা, তখনও এভাবে দাম বাড়েনি পণ্যের। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজারের তালিকায় যেসব পণ্য অপরিহার্য্য সেগুলোর দামই এখন আকাশ ছোঁয়া। যেমন চাল, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, শাকসবজি, ডাল। একমাত্র ডাল ছাড়া বাকি সব পণ্যেরই দাম বাড়ছে। পেঁয়াজ বর্তমানে আছে সেঞ্চুরির কোঠায়। ইতোপূর্বে ‘ডাবল সেঞ্চুরিও ছুঁয়ে এসেছে। বর্তমানে আলু কেজি প্রতি ‘হাফ সেঞ্চুরিতে’ আছে। সরকার আলুর পাইকারি ও খুচরা দাম বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে, অপরদিকে আয় কমেছে মানুষের। জানা গেছে, করোনার কারণে আয় কমেছে ২০ শতাংশ। এই সময়ে নতুন করে দেড় কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। দেশের দরিদ্র মানুষের দৈনিক আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় চাল কিনতে। সরু ও মাঝারি চালের প্রধান ভোক্তা হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা। এই শ্রেণির পরিবারগুলো এখন পড়েছে মহাবিপাকে। চালের রেকর্ড উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও কেন আকস্মিকভাবে এই চালের দাম বৃদ্ধি, তা কেউ জানে না। জানা গেছে, গত ১১ বছরের মধ্যে দেশে এবার সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। আসন্ন আমন মওসুমেও বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকগণ। তারপরেও দাম বাড়ছে। আসলে আমাদের দেশে কখন কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কী কারণে বাড়ছে- তা কেউ জানেনা। কোন পণ্যের সরবরাহ কম হলে বাজারে এর দাম বাড়বে, এই ধরনের একটা কথা প্রচলিত থাকলেও আমাদের দেশে ঘটে এর উল্টোটা। এখানে ফসল তোলার ভরা মওসুমেও চালের দাম বাড়ে। অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবসায়ীরা। তারা ইচ্ছেমতো কোন পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে; সেখানে কোন যুক্তি খাটে না। অনেক সময় এই ব্যবসায়ীদের পেছনে থাকে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। তাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসায়ীরা বাজারকে অস্থির করে তুলে। তারাই অনেকসময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার জন্য পণ্য মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেয়; আবার বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোন কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। যথাযথভাবে বাজার মনিটরিং করলে এমন পরিস্থিতি হতো না বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অতি সম্প্রতি ভ্রাম্যমান আদালত বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন বাজারে বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এতে স্থায়ী কোন ফলাফল আসছে না। তাই দেশব্যাপী অভিযানের মাত্রা বাড়াতে হবে।