১৩ মে ২০২০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সবুজ প্রকৃতিতে পাখির ছানাদের ভাগ্য বড়ই সুকঠিন। পাখির পরবর্তী প্রজন্ম প্রকৃতিতে টিকে থাকবে কি থাকবে না– এটি পাখি দম্পতি নয়, পুরোপুরি নির্ভরশীল প্রকৃতির উপর। যে প্রকৃতি তাদের বেড়ে উঠতে সহায়তা করে সেই প্রকৃতিই আবার নিত্য বাধা, যেখানে নিত্য যুদ্ধ।
প্রকৃতি স্বাভাবিক আচরণ করলেই নিশ্চিত হয় তাদের বাসা, ছানাদের নিয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকা। বিপরীতে ঘটে দুর্ঘটনা নামক মৃত্যুর অনিবার্য সত্যতা। এসব প্রতিকূলতা নিয়েই তাদের শৈশব জীবন। প্রকৃতির ঘোরটোপে বাধা।
সুপারি গাছের পাতায় বাসা করেছিল বাবুই পাখি। সাধারণত তারা তালগাছ বা অন্যা বলিষ্ঠকায় উঁচু জাতীয় গাছে বাসা করে। প্রকৃতির নির্দিষ্ট নিয়মে বাবুই দম্পতি ছানাও তুলেছিল। কিন্তু সেই প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি বাসা থেকে ছিটকে দিলে মারা পড়ে দু’টি বাবুই ছানা।
এ ছবিগুলো পাঠিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী অনিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, অনেকদিক পর আমাদের গ্রামের বাড়ির পুকুরের সামনে সুপারি গাছেগুলোতে বাবুই পাখি বাসা বানিয়েছে। সেই বাসায় ডিম ফুটে বাচ্চাও এসেছিল। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের মাঝে বাসা থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে দেখলাম বাচ্চা দুটো মারা গেছে। লাল পিঁপড়ের খাবারে পরিণত হয়েছে তারা।
এ ঘটনাটি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের খালুয়া গ্রামে। তিনি আরো বলেন, অন্য গাছে আবার দেখলাম অন্য বাবুই পাখিগুলো তাদের বাসায় সুরক্ষিত আছে। মারা যাওয়া দুটো বাচ্চার জন্য মনটা খারাপ হয়ে গেলো। প্রকৃতির খেলায় হয়তো আবার এই বাসায় ডিম ফুটে বাচ্চা আসবে। সেই আশায় বুক বেঁধে রইলাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে। এটা ন্যাচারাল (প্রাকৃতিক)। আরেকটা বিষয় হচ্ছে- ন্যাচারে (প্রকৃতি) ওরা যেভাবে ব্রিড (প্রজনন) করবে তার শতভাগ কিন্তু সারভাইব (প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা) করবে না। কোনো না কোনো স্টেজে (অবস্থায়) এখানে ড্রপআউট (বাদ পড়া) হবেই। শতভাগ সাকসেসফুল (সফল) হবে না। তবে বেশির ভাগই কিন্তু সাকসেসফুল হয়।
পাখির ছানাদের ক্ষেত্রে ন্যাচারে (প্রকৃতি) শতভাগ পরিপূর্ণভাবে পাখিরূপে বড় না হয়ে ওঠার কারণগুলো হলো- কোনো প্রাণী হয়তো তাদের খেয়ে ফেলবে নতুবা এভাবে বাতাসে মাটিতে ওরা পড়ে যাবে। যে কোনো স্টেজে গিয়ে পাখির ছানাগুলো প্রাকৃতিকভাবে কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি সে হবেই।