১৫ অক্টোবর ২০১৭


যে কারনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে কামরানের…

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। অবশ্য ইতোমধ্যে নামটির খ্যাতি পাড়া-মহল্লা, নগর ও দেশ মাড়িয়ে এখন বিদেশেও সমধিক উচ্চারিত। কোন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারে নামটি যুক্ত না থাকলেও স্বীয় প্রজ্ঞা আর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধমে গণমানুষের হৃদাসন জয় করেই আজ নামটির খ্যাতি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসের মাঠিতেও সমানভাবে সমাদৃত।

ছিলেন সিলেট নগরীর একটি ছোট্ট মহল্লায়। খেলাধূলা ও সংগীত চর্চায় শৈশবে নিজেকে জড়িয়ে রাখলেও নগরবাসীর অনেকেই তখন জানতো না কামরানের নাম। তারপর শুরু হলো উত্থান পর্ব। টানা একাধিকবার ওয়ার্ড কমিশনার। তারপর পৌর মেয়র। সবশেষের ঘটনা ইতিহাস। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র এবং পরে নগরবাসীর বিপুল ভোটে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে আবারো নিজের যোগ্যতার জানান দেন যথারীতি। আর তখন থেকেই নগরবাসী ভালবেসে তাদের চিরচেনা এই অভিভাবকের নামের পাশে জননন্দিত শব্দটিও যুক্ত করে দেন অবলীলায়। আর এভাবেই কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সেদিনের সেই কামরান আজ দেশে-বিদেশে প্রিয়পাত্র।

বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান লড়ছেন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। হেলাল হাফিজের কবিতার দুটি লাইনের সাথে এই রাজনীতিবিদের যৌবনকালের অদ্ভূতরকম মিল আছে। “এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”।

ঠিক এই লাইনটির মতোই কামরান নিজের যৌবনকালকে প্রথাগত চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ঘরসংসার করার জীবন বেছে নেননি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দৃপ্ত শপথ লড়াইয়ে রক্তেভেজা রাজপথে, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠের অনিশ্চিত এক জীবন।

কামরান যখন অষ্টম শ্রেণিতে, তখনই তিনি হয়ে উঠতে থাকেন রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টর শহীদের পূর্বে তিনি সিলেটের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সাথে দেখা করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে। তবে একটি ছবি ছিল বঙ্গবন্ধুর সাথে কিন্ত বঙ্গবন্ধুর শহীদের পর এই ছবিটি আর উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। বঙ্গবন্ধুর সাথে কয়েক মিনিটের সাাতে জীবনে মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়াতে হয় তিনি বুঝতে সম হন। সময়ের পরিক্রমায় এক তুখোড় ছাত্র নেতা, যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাঙালির স্বাধিকারের স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন। সেই আশির দশকে উন্মুখ হয়েছিলেন দেশের তরে।

দেশের মানুষের সামষ্টিক কল্যাণে নিজ জীবনকে বিসর্জন দিতে। কত আগ্নেয়গিরির লাভার মতো জ্বলন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনগুলোতে তার ছিল সরব এবং তেজোদীপ্ত উপস্থিতি। যার ফলে শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে সহ্য করতে হয়েছে বছরের পর বছর কারা প্রকোষ্ঠের অন্ধকার জীবন। ভোগ করতে হয়েছে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন-নিপীড়ন।

বঙ্গবন্ধুর আর্দশ বাস্তবায়নের জন্য তার এক বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে রাজপথ থেকে শুরু করে জেল জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে করতেই এক সময় কামরানের উত্তরণ ঘটে জাতীয় নেতা হিসেবে। বৃদ্ধি পায় তার কর্মপরিধি, ব্যস্ততা। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় ব্যক্তিগত জীবন চাহিদার ত্যাগের পরিধিও। রাজনীতির মাঠ কাঁপিয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মোতাবেক সারাদেশের মানুষকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্ধুদ্ধ ও সংগঠিত করাই ছিল যেন তখন জীবনের একমাত্র ব্রত।

রাজনীতিবিদরা মনে করেন যাদের জীবন শুধু সংগ্রামের, ত্যাগের যারা দিতে জানে বিনিময়ে কিছু নিতে জানে না প্রকৃত অর্থে তারাই মানুষ, যাদের অনুসরণ করলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায়। সে রকম একজন ণজন্মা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেটের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ । নানা ঝড়ঝাপ্টার মাঝেও দলীয় আদর্শে তিনি অবিচল থাকেন। কখনো দলীয় নেতা কর্মীদের নিকট হয়ে উঠেন বড় অবলম্বন।

কেবল রাজনীতিই নয়, ব্যবসা বাণিজ্য এবং শিল্পায়নের মাধ্যমেও দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন তিনি। সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এরপর নির্বাচিত হন পৌর চেয়ারম্যান। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা উন্নীত হয় সিটি করপোরেশনে। সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনেও নগরবাসী আস্থা রাখেন তার প্রতি।

সিলেট সিটির প্রথম নগরপিতা হিসেবে অভিষিক্ত হন কামরান। ২০০৮ সালে সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনেও ভোট বিপব ঘটিয়ে কারারুদ্ধ কামরান পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ পথচলায় তিনি হয়ে ওঠেন গণমানুষের নেতা। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃণমূল থেকে উঠে আসা কামরানের সামনে ছিল হ্যাটট্রিক মেয়র হওয়ার হাতছানি। কিন্তু সেবার ঘটে ছন্দপতন।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। ভোটের হিসাবে পরাজিত হলেও মানুষের হৃদয়জয়ী কামরান এখনো নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন সিলেটবাসীর মাঝে।

নগরভবন ঠিকানা না হলেও সিলেট মহানগরীর মানুষ এখনো তাকে ‘মেয়র সাব’ বলেই সম্বোধন করে। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে ছুটে যায় তার কাছে। কামরানও নিরাশ করেন না বিপদে পড়া তার প্রিয় নগরবাসীকে। নির্বাচনে পরাজয়কে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান একটি অভিজ্ঞতা হিসেবেই নিয়েছেন।

তার মতে, উত্থান-পতন না থাকলে জীবনকে উপলব্ধি করা যায় না। নির্বাচনে পরাজিত না হলে তার হয়তো জানাই হতো না মতাহীন কামরানকে নগরবাসী কতটুকু ভালোবাসে।
সিটি করপোরেশনের মেয়র থেকে জনতার মেয়র হয়ে ওঠা কামরানের এখন সকাল-সন্ধ্যা কাটে সাধারণ মানুষকে নিয়ে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বাসার নিচতলার ড্রইংরুমে দেখতে পান অপেমাণ মানুষের জটলা। কেউ এসেছেন সমস্যা নিয়ে, আবার কেউ বিচারপ্রার্থী হতে।

কামরান সবার কথা শোনেন, সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন কিছুতেই বাদ পড়ছেন না কামরান। তাকে ছাড়া যেন নগরবাসীর কোনো অনুষ্ঠানই পূর্ণতা পায় না। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মক- শেষে মধ্যরাতে যখন কামরান ফেরেন তখনো মানুষের আনাগোনা থাকে নগরীর ছড়ারপাড়াস্থ বাসায়।

কামরান মনে করেন, মানুষের ভালোবাসার জন্যই তিনি পৌরসভার একজন সাধারণ কমিশনার থেকে নগরপিতার আসনে বসতে পেরেছিলেন। এ ভালোবাসাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মেনে নিয়ে তিনি বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান মানুষের কল্যাণে, দলের কল্যাণে।

(আজকের সিলেট/১৫ অক্টোবর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন