১৪ অক্টোবর ২০২০


মাস্ক ব্যবহার করছেন না হবিগঞ্জবাসী

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : মহামারি করোনা এখনও শেষ না হলেও হবিগঞ্জে মাস্কের ব্যবহার নেই বললেই চলে। রাস্তাঘাট, যানবাহন, হাসপাতাল ও আদালত প্রাঙ্গণে সাধারণ লোকজন প্রকাশ্যে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করছেন। তবে অল্প কিছু সংখ্যক লোক মাস্ক ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে অনেকই ফ্যাশন হিসেবে মাস্ক থুতলির নিচে কিংবা কানে লাগিয়ে চলাফেরা করছেন। করোনা থাকলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নেই। নেই কোনও সচেতনতা। আগের মতো আর করোনার সচেতনতায় কোনও ধরনের কর্মসূচিও দেখা যায় না মানুষের মাঝে।

অপরদিকে বিগত কয়েক মাসের তুলনায় করোনার নমুনা সংগ্রহ অর্ধেকের চেয়ে বেশি কমে গেছে। অনেকেরই করোনার উপসর্গ থাকলেও ভয়সহ নানা কারণে করোনার টেস্ট করানো থেকে বিরত থাকেন।

মাস্ক ছাড়াই চলছে মানুষসূত্র মতে বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, আদালত প্রাঙ্গণসহ লোকসমাগম এলাকায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সম্প্রতি সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও সাধারণ লোকজন তা মানছেন না। মাস্কের ব্যবহারের ওপর মাঝে মধ্যে সরকারি অভিযান দেখা গেলেও এখন একেবারে নেই বললেই চলে। সম্প্রতি হবিগঞ্জ শহরে বেশকয়েকটি জনসভা, মিছিলে কোনোধরনের মাস্ক ছাড়াই লোকজনকে দেখা গেছে।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রহিম আলী জানান, শহরে করোনা আছে বলে মনে হয় না। ইজিবাইক, রিকশা, সিএনজসহ যানবাহনে যাত্রী কিংবা চালক হেলপার কেউই মাস্ক পরে না। আর আমরা সাধারণ লোকজন তো পরছিই না।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অপর একজন রোগী রমজান মিয়া মাস্ক কেন পরেন না এমন প্রশ্নে জানান, রোগী নিয়ে তাড়াহুড়া করে এসেছেন হাসপাতালে। মাস্ক পরার সময় পাননি।

তিনি বলেন, ‘আমার মতো সব মানুষ মাস্ক ছাড়াই হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নিতে।’

মাস্ক ছাড়াই চলছে মানুষহবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ ইমতিয়াজ আব্দুল্লাহ তুহিন জানান, করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে গেছে। এখন আগের মতো আর নমুনা দেয় না।

তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে ৬০ থেকে ৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ করতাম প্রতিদিন, কিন্তু এখন ১২ থেকে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে থাকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের করোনা উপসর্গ থাকলেও নমুনা দিতে আগ্রহ নেই। এটা এক ধরনের অসচেতনতা। শুধু সরকারি চাকরিজীবী কিংবা সচেতন মানুষ নমুনা দিচ্ছেন।’

হবিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল জানান, মাস্কের ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক না পরলে একজন মানুষের শতভাগ করোনার ঝুঁকি থাকে।

তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে নো মাস্কা নো সার্ভিস। আমি মাস্ক ব্যবহার না করলে সার্ভিস দিই না।’

মাস্ক ছাড়াই চলছে মানুষতিনি অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা পিপিইসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঠিকভাবে পাচ্ছি। এছাড়া মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতামূলক কর্মসূচি করে যাচ্ছে।’

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানান, মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা মাস্ক পরে না মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নৌ মাস্ক নো সার্ভিস সেবা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কাজেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

শেয়ার করুন