৯ অক্টোবর ২০১৭
ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর জেলরোড এলাকার বাসিন্দা সিকন্দর আলী। প্রতিমাসে তাঁর বাসায় বিদ্যুৎ বিল আসে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। গত জুলাই মাসে বিল এসেছিল দুই হাজার ৭২ টাকা। কিন্তু আগস্টে বিদ্যুৎ বিল আসে ২৮ হাজার ৫৭৬ টাকা।
নগরীর মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুলের বাসার মিটারেরও একই অবস্থা। তার বাসায় গত মাসে বিল এসেছে ১৩ হাজার ৪২৮ টাকা। অথচ এর আগের মাসগুলোতে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বেশি বিল আসেনি।
শুধু বাবুল ও সিকন্দর আলীই নয়, সিলেট পিডিবির চারটি দপ্তরের প্রায় ৪০ ভাগ গ্রাহকই গত আগস্টে এমন অস্বাভাবিক এমন অস্বাভাবিক বিল পেয়েছেন। গ্রাহকরা যাকে বলছেন ভুতুড়ে বিল। হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল পেয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে গ্রাহকদের। অস্বাভাবিক বিলের প্রতিবাদে আন্দোলনেও নেমেছেন গ্রাহকরা।
তবে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, মিটার রিডারদের যথাযথ তদারকি ও গাফিলতির কারণে এমনটি হয়েছে। এ কারণে প্রায় পাঁচ শ’ মিটার রিডারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মিটার রিডাররা ৩০ ভাগ গ্রাহকের বাসা-বাড়িতে না গিয়ে মিটার রিডিং করেছে। ঘরে বসেই আনুমানিক বিল তৈরি করেছেন। ফলে রিডিং জমা থাকায় একসঙ্গে অধিক বিল এসেছে।’
দায়ী মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসের বিল অস্বাভাবিক হলেও রিডিং ঠিক আছে। ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না। গ্রাহকরা কিস্তিতে বিল পরিশোধ করতে পারবেন।’
পিডিবির সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার মিলিয়ে ৭০০ মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারীর পদ রয়েছে। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। প্রায় সাত মাস পূর্বে সিলেটে বিদ্যুৎ বিল তৈরির কাজ দেওয়া হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুন্সি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনকে। সিলেটের বাইরে থেকে কর্মী এনে মিটার রিডিংয়ের কাজে নিয়োজিত করে তারা। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই মিটার রিডাররা সঠিকভাবে রিডিং করেননি। অনেকে বাসা-বাড়িতে না গিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিংও করতেন। এ কারণে গত কয়েক মাসে মিটারে রিডিং জমা হতে থাকে। আগস্ট মাসে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইউনিট ব্যবহার হয়েছে দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়। অনেক গ্রাহক জুলাই মাসেও অস্বাভাবিক বিল পান।
মিটার রিডারদের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে গত এপ্রিল মাসে প্রায় ৫শ’ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ অবস্থায় আবারও মুনসী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েটকে মিটারের ছবি তুলে (স্ন্যপশট মিটারিং সিস্টেম) বিদ্যুৎ বিল তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্ন্যাপশট মিটারিং সিস্টেম চালুর পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। অস্বাভাবিক বিল আসতে শুরু করেছে তাদের।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমদ বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থে কয়েক দফায় বিল পরিশোধ করার জন্য সুবিধা করে দেয়া হচ্ছে। মুন্সি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটকে বিদ্যুতের স্ল্যাপিং ও বিলিংয়ের কাজ দেওয়া হয়েছিলো। তারা ঠিক মত রিডিং দেখে বিল তৈরি না করার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত বিলের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়াও অনেকে গ্রাহকের মিটারে পূর্বের অনেক ইউনিট জমে আছে। যার কারণে এক সাথে সব বিল আসার কারণে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে গেছেন।
(আজকের সিলেট/৯ অক্টোবর/ডি/এমকে/ঘ.)