৬ জুলাই ২০১৭

আজকের সিলেট ডেস্ক:: আলোচিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। ছিলেন দলের সংকটকালে অজ্ঞাতস্থান থেকে বিবৃতি দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্বে। হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হলে দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। দলের পক্ষ থেকে দেয়া হয় কর্মসূচি। এরমধ্যেই তার সন্ধান মেলে ভারতের শিলংয়ে।
দলের শীর্ষ এই নেতার সন্ধানে স্বস্তি মিললেও এরজন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করে বক্তৃতা বিবৃতিতে সরব ছিলেন বিএনপি নেতারা। তবে এখনো কাছে না পেয়ে এখনো উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় কাটছে সালাউদ্দিনের পরিবারের দিনকাল। কারণ অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় ভারতের শিলংয়ের আদালতে বিচার চলছে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর।
অন্যদিকে নানা শারীরিক অসুস্থতা শরীরে ঝেঁকে বাসায় সেখানেই সালাউদ্দিনের চিকিৎসা চলছে।
এই যখন অবস্থা তখন সুযোগ হলেই শিলংয়ে গিয়ে স্বামীর খোঁজখবর নিয়ে আসছেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। তবে স্বামীর সেবাশশ্রুষা করার সুযোগ পেলেও এখনো মামলার রায় কী হয় তা নিয়ে শঙ্কায় তিনি।
বিএনপির সরকারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ‘অজ্ঞাতস্থান’ থেকে দলের পক্ষে বিবৃতি দিতেন দলের তখনকার যুগ্মমহাসচিব সালাউদ্দিন। বেশকিছুদিন দলের মুখপাত্র হিসেবে এমন দায়িত্ব পালন করার মধ্যেই ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে হঠাৎ নিখোঁজ হন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। নানাভাবে বিএনপি ও তার পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধান দিতে পারেনি। নিখোঁজের দুইমাস পর ১২ মে ভারতের শিলংয়ে সালাউদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে সেখানেই আছেন তিনি।

শিলংয়ের গলফ লিংক রোডে তার খোঁজ মেলার পর সেখানকার পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্টে’ অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দেয়া হয়। বর্তমানে তার মামলার বিচার চলছে। তবে কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছেন আজও সেই রহস্যের জট খোলেনি।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে সালাউদ্দিন আহমেদকে যুগ্মমহাসচিব পদ থেকে পদন্নোতি দিয়ে তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। বলা হয়ে থাকে, দলের ক্রান্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য করা হয়।
ব্যক্তিজীবনে সালাউদ্দিন আহমেদ চার সন্তানের জনক। বড় ছেলে কানাডায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। আর মেয়ে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করে। ছোট দুই মায়ের সঙ্গেই রাজধানীর গুলশানের বাসায় থাকে।
অনুপ্রবেশের মামলায় সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে বেশ আগে। সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষের দিকে।
বিএনপির এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে হার্ট এবং কিডনী সমস্যায় ভুগছেন। ভারতে থাকাবস্থায় তার কিডনি ও মূত্রথলিতে সমস্যার জন্য অপারেশন করতে হয়েছে। তবে অপারেশনের পুরো সময় ধরেই স্বামীর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী হাসিনা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সালাউদ্দিনের ভাতিজা সাফওয়ান ও সবুজ মোটামুটি নিয়মিত তার সঙ্গে থাকেন। মাঝে মাঝে স্ত্রী সেখানে যান।
কিছুদিন আগে শিলং ঘুরে আসার পর হাসিনা আহমদের সঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, তিনি (সালাউদ্দিন) দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।
দূরদেশে থাকলেও সন্তানদের তার বাবা খুব মিস করেন জানিয়ে সালাহউদ্দিন পত্নী বলেন, ‘ছেলেমেয়েরাও তার বাবাকে ভীষণ মিস করে। মামলার সময় আদালতে যাওয়া ছাড়া সেখানে তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই। তাই ইবাদত আর বই পড়েই তার সময় কাটে।’

হাসিনা আহমেদের ভাষ্য, ‘সালাউদ্দিনের শরীর অসুস্থ। দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। বিচার শেষেই তিনি দেশে ফিরতে চান। কিন্তু সেটা নির্ভর করছে কোর্টের রায়ের ওপর।’
স্ত্রীর আশা রায় তাদের পক্ষে যাবে। সালাউদ্দিন আহমেদও মামলার শুরুর দিকে এমন আশা করে বলেছিলেন, ‘আমি ইচ্ছাকৃত ভারতে আসিনি। আমাকে অপরহরণ করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। এটা স্পষ্ট।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে সালাউদ্দিন ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তার স্ত্রীও কোনো সমস্যা হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে যোগাযোগ করেন।
এস.আর/ঘ.