২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাটে বনবিভাগের বাধায় বন্ধ হতে চলেছে পুর্ব জাফলংয়ের ৫টি গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াত রক্ষাকারী সড়ক। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার উদ্যোগের আওতায় সিলেট বনবিভাগের সারী রেঞ্জের জাফলং বনভিটের আওতাধীন ৩নং পুর্ব জাফলং ইউনিয়নের চৈলাখেল ৩য় খন্ড মৌজার দাগ নং ১৩৮ (এসএ রেকর্ড) বনভূমির উপর দিয়ে চলে আসা ঐতিহ্যবাহি কানাইজুড়ি সড়কটি ঘেষে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বনভিাগ।
এই সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ হাতে নেয়ায় পায়ে হাটার জন্য মাত্র ৬ফুট রাস্তা রেখে অবশিষ্ট ভূমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং এরই লক্ষে কাজও শুরু করেছে জাফলং বনভিট কর্তৃপক্ষ। এদিকে সিলেট বনবিভাগের সারী রেঞ্জের জাফলং বনবিভাগের ভূমির উপর দিয়ে সুদীর্ঘকাল হতে চলে আসা ২৩ ফুট প্রশস্থ এই সড়কটি ব্যবহারকারী স্থানীয় মুসলিমনগর, কালিনগর, শান্তিুনগর, মুজিবনগর, নলজুরি আংশিকসহ এলাকার ২০ হাজার জনসাধার, স্কুল কলেজ পড়ুয়া স্থানীয় ছাত্র/ছাত্রী, পাশ্বর্তী স্থানে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে গড়ে ওঠা একটি ষ্টোন ক্রাশিংজোনের যানবাহণ ও কয়েক শতাধিক শ্রমিক চলাচলের একমাত্র এই সড়কটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে।
এঘটনায় বিক্ষোব্ধ জনগণ মানবিক বিবেচনায় সড়কটি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সরজমিনে সিলেটের সারী রেঞ্জের জাফলং বনভিটের তামাবিলস্থ কানাইজুড়ি এলাকায় পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় যে বনবিভাগের সীমানাপ্রাচীর নির্মানের জন্য নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে সমবেত রয়েছেন ভিট অফিসার জহিরুল ইসলাম। এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন,জাফলং বিভাগের ভুূমি উদ্ধার এবং বেদখলমুক্ত করণে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত আছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৬ফুট ভূমি সড়কের জন্য রেখে ছোট করে সড়কটির উভয় পার্শে সীমানা প্রাচীর তৈরী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিপুর্বে বনবিভাগের ভুমি হতে অর্ধ্ব শতাধিক অবৈধ ডাম্পিং ইয়ার্ড, অবৈধ ষ্টোনক্রাশার মিল, অর্ধ্ব শতাধিক অফিস উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সরজমিনে কথা হয় একাধিক এলকাবাসির সাথে। আব্দুস সালাম, কবির মিয়া, আয়নুল, বাচ্চু মিয়া, রফিক মিয়া, রমজান আলী, ইয়াসিন মিয়া, সোলেমান মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জানান, ভিট অফিসার জহিরুল ইসলাম জাফলং ভিটে যোগদানের পর থেকে ডাম্পিং ইয়ার্ড, মিল কারখানা উচ্ছেদ করেন। সোনাটিলা মাঠে পাথর ডাম্পিং ইয়ার্ড উচ্ছেদের জন্য প্রতিদিনই স্থানীয় পাথর, কয়লা ব্যবসায়ীদের সাথে ঝগড়াঝাটি, বাকবিতন্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি তার ষ্টাফ ব্যবসায়ীদের সোনাটিলা মাঠ ব্যবহারে বাধা প্রদান করে আসছেন।
তার এমন অপতৎপরতায় এখন বনবিভাগের ভুমির উপর দিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো জনসাধারণ চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বনের ভুমি স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে শান্তিপূর্নভাবে ভোগ করলেও ইতিপুর্বে কেউই বর্তমান ভিট অফিসার জহিরুল ইসলামের মতো এমন অমানবিকতা দেখাননি কখনো।
মুসলিম নগর এলাকার একজন ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, স্থানীয় ৫টি গ্রামের জনসাধারণ, স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের যাতায়াতের পাশাপাশি কানাইজুড়ির এই সড়কটির পাশ্ববর্তি স্থানে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে গড়ে ওঠা একটি ষ্টোন ক্রাশিংজোনের যানবাহণ ও কয়েক শতাধিক শ্রমিক চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। এটি বন্ধ করা হলে স্থানীয়দের যাতায়াত বিড়ম্বনা তৈরী,কয়েক শতাধিক শ্রমিক,ব্যবসায়ীর কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিতে তিনি সিলেট বনবিভাগের প্রতি জোর দাবি জানান।
সিলেট বনবিভাগের সারী রেঞ্জের রেঞ্জার মোঃ সাদ উদ্দিন বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে কোন ধরণের রাস্তা কিংবা সড়ক করা আইনত দন্ডনীয়। আমাদের সারী রেঞ্জের আওতাধীন জাফলং বনভিটের ভূমি উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। চলমান প্রক্রিয়ার আওতায় প্রশস্থ এই সড়কটি সরু করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।