২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
বিশেষ প্রতিবেদক : গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদ্য বিবাহিত দম্পতি বেড়াতে যান সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে। রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে ক্যম্পাসের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে আসালে ক্যম্পাস থেকে ফেরার পথে স্বামীর কাছ থেকে ছিনতাই করে বধূকে নিয়ে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
পথমে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণের চেইন, টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এরপর এই চক্রের এক ধর্ষক বলে উঠে- ‘দেখ মেয়েটি তো সুন্দর’। এরপর স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন বধূকে। এ সময় ওই বধূ সম্ভ্রম রক্ষায় তাদের হাতে-পায়ে ধরে আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মন গলেনি ধর্ষকদের। জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে একের পর এক ধর্ষণ করে।
রোববার সিলেটের আদালতে জবানবন্দিকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণী। আলোচিত এ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর কাছে এই তথ্য জানিয়েছেন। ধর্ষিতা বধূ জানান, তাদের বিয়ে বেশিদিন হয়নি। মাত্র কয়েক মাস হবে।
ধর্ষককের মধ্যে থেকে যখন একজন বললেন দেখ মেয়টা তো সুন্দর! এরপর তারা ঘুরে এসে জাপটে ধরে বধূটিকে। এতে প্রতিবাদ করেন সঙ্গে থাকা স্বামী। ধর্ষকরা এ সময় তার স্বামীকে মারধর শুরু করে বধূকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় চিৎকার করলেও ছেড়ে দেননি তারা। অসহায় স্বামী ও ধর্ষকদের পিছু পিছু যাচ্ছিলেন। তিনি গিয়ে এমসি কলেজের হোস্টেলে ঢুকেন। ধর্ষকরা তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে স্বামী গিয়ে সেখানেও বাঁধা দেন। ছাত্রাবাসের ভেতরেই তার স্বামীকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে বেঁধে ফেলে।
ওই বধূ জানান, স্বামীকে বেঁধে তারা তার ওপর নির্যাতন করে। এ সময় তিনি সম্ভ্রম রক্ষার্থে তাদের হাতে-পায়ে ধরেন। কিন্তু এতে মন গলেনি ধর্ষকদের। এ সময় চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। দু’তলায় থাকা কয়েকজন যুবক নিচে নামতে চাইছিলো। এ সময় তাদের ধমক দিয়ে আটকে দেয়া হয়। পরে পুলিশ গেলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালতে নির্যাতিতা নারী তার ওপর চলা নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা জানিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার ঘটনার খবর পেয়ে এমসির ছাত্রাবাসে ছুটে গিয়েছিলেন সাবেক এক ছাত্রনেতা। তিনি জানিয়েছেন, তারা গিয়ে নির্যাতিত ওই বধূ ও তার স্বামীকে ছাত্রাবাসে পেয়েছেন। এ সময় সেখানে পুলিশও ছিল। তাদের মুখে বর্ণনা শুনে কারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে এ তথ্য উদ্ঘাটনে ধর্ষিতা ও স্বামীর মুখে বর্ণনা শুনে তারা ধর্ষকদের পরিচয় বের করেন। এ সময় ফেসবুক আইডি থেকে তাদের ছবি বের করা হয়। পরে ধর্ষিতা ও তার স্বামী ওই ধর্ষকদের শনাক্ত করেন।
তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ ওই বধূকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশাতে বসিয়ে রাখে। তাৎক্ষণিক শাহপরান থানার ওসিসহ সাবেক ছাত্রনেতারা হোস্টেলে যান। গিয়ে অভিযান চালান। ওই সময় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সবাই ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে যায়।