২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০


ধর্ষকদের ‘শাস্তি’ চান রঞ্জিত সরকারও!

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : ধর্ষণে অভিযুক্তদের ফেসবুকে তাদের সঙ্গে কভার ছবিতে রঞ্জিত সরকার। রাজনৈতিক গুরু হিসেবে তাকে আদর্শ বানিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়েছে একাধিক ছবি। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আলোচিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা তারই গ্রুপের কর্মী। অথচ তাদের শাস্তি চেয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকারও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি ধর্ষণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের শাস্তি দাবি করেন।

তিনি লিখেন- ‘পূণ্যভূমি সিলেটে এমন নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটবে, তা আমাদের কল্পনাতীত ছিল। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হায়েনাদের কর্মকাণ্ডকেও হার মানিয়েছে। স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে তার সামনে ধর্ষণ করেছে যারা, তারা মানুষ নয়, হায়েনা। তাদের কোনো দল, গোত্র, দেশ কিংবা মানুষ নামে পরিচয় থাকতে পারে না। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর ভাষা হরিয়ে ফেলেছি। আমি আমার অবস্থান থেকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকব, সবাইকে কঠোর থাকার আহবান জানাচ্ছি। এদের বিচারের জন্য পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিতে সবাই যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার থাকবেন। নরপশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। ’

রঞ্জিত সরকার এবার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব পেয়েছেন। তার এমন স্ট্যাটাসে অনেকে তাকে সাধুবাদ জানালেও সমালোচনার তীর ছুড়ে দিয়ে আবার অনেকে বলছেন, ‘ধর্ষকদের কভার, প্রোফাইলে আপনার ছবি। আপনার সঙ্গে ছবি।’

অসীম নামে একজন লিখেন, ‘সেই ৯৯/২০০০ সাল থেকে আপনার সঙ্গে পরিচয় এবং ছাত্রলীগের দুঃসময়ে জারুল তলায় দাঁড়িয়েছি, আপনার মুক্তির জন্য মিছিল দিয়েছি। কিন্তু ধর্ষকদের প্রোফাইলে বা কভারে আপনার সঙ্গে ছবি দেখে খুবই খারাপ লাগলো। ’

‘প্রশাসনে তো আপনাদের হাত অনেক শক্ত। আসামিদের গ্রেফতার এবং বিচারের কাজটা যাতে হয়, সেই ব্যবস্থাটা করুন। টিলাগড়, এমসি কলেজ, জারুলতলা, গোপালটিলা এসব এলাকায় ছাত্রলীগকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড খুবই পীড়াদায়ক। ’

এমএ আহাদ লিখেছেন, ‘এবার মুখ খুলেছেন গণধর্ষণকারীদের গডফাদার, সিলেটের শীর্ষ সন্ত্রাসী, গুণ্ডা-মাস্তান-ছিনতাইকারী-ধর্ষক তৈরির কারিগর আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকার! তিনিও নাকি এ ঘটনার বিচার চান! তার ভাষায় ধর্ষকরা হায়েনা, তাহলে তিনি কী? ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাত ১২টা পর্যন্ত হোস্টেলে ধর্ষিতাকে আটকে রাখা হয়, তারই নির্দেশ। ’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী গণধর্ষণ করেন। পরে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীকালে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ সুরমার নবদম্পতি শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেটকারে করে এমসি কলেজে বেড়াতে যান। পরে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মী স্বামী-স্ত্রীকে ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে প্রথমে মারধর করেন। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেন। ছাত্রলীগ নেতাদের প্রত্যেকেই ছাত্রাবাসে থাকেন। তারা টিলাগড় কেন্দ্রীক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার গ্রুপের অনুসারী।

এ ঘটনায় শনিবার ভোরে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুই তিনজনকে অভিযুক্ত করে নগরের শাহপরান থানায় মামলা করেন ওই নারীর স্বামী। এঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন