৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
কাউসার চৌধুরী, অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট বিভাগের ১৬ পৌরসভার নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে ১৬ পৌরসভার নির্বাচন, শপথ গ্রহণ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখসহ বিস্তারিত তথ্য সিলেট থেকে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ভোটার তালিকা।
সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে। এজন্যে ডিসেম্বরেই নির্বাচন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। নির্বাচন কমিশন পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে তারা কাজ করছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ১৯ পৌরসভার মধ্যে ১৬ পৌরসভার নির্বাচন করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। বাকি ৩ পৌরসভার মধ্যে দু’টিতে মামলাজনিত কারণে ও অন্যটির মেয়াদ উত্তীর্ণের সময় পূর্ণ না হওয়ায় নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচনযোগ্য ১৬ পৌরসভার মধ্যে আগামী জানুয়ারি মাসে ১টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৩টি এবং মার্চ মাসে ২টি পৌরসভার পরিষদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। এজন্যে এই ১৬ পৌরসভার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট জানতে চাওয়া হয়।
এর প্রেক্ষিতে পৌরসভার নাম ও শ্রেণি, নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ, শপথ গ্রহণের তারিখ, প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখসহ বিস্তারিত বিবরণ ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। গত রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সভায় ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বুধবার সিলেট বিভাগের ১৬ পৌরসভাসহ ২৩৪ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হন মেয়র প্রার্থীরা।
এদিকে, মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নির্বাচনের জন্য গ্রুপিং রাজনীতিও শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণির। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের পর নির্বাচিতরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। একই দিন তাদের প্রথম সভা হয়। এই পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুর রহমান হিরনকে হারিয়ে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের ৩১ মে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মারা গেলে ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম রাবেল বিজয়ী হন।
কানাইঘাট পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২ মার্চ। ‘গ’ শ্রেণির এই পৌরসভার নির্বাচন ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সম্পন্নের পর বিজয়ীদের শপথ হয় ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ৩ মার্চ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে হারিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন আল মিজান বিজয়ী হন।
জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। ‘গ’ শ্রেণির এ পৌরসভার ভোট নেয়া হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন বিজয়ী হন। নিকটতম প্রার্থী ছিরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিফজুর রহমান।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের পর বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ হয় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বি.এন.পি প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিককে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিরেন্দ্র লাল সাহা বিজয়ী হন।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর চুনারুঘাট পৌরসভার নির্বাচনের পর বিজয়ীরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি। ‘ক’ শ্রেণির এ পৌর নির্বাচনে বি.এন.পি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন শামসু আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রুবেলকে হারিয়ে বিজয়ী হন।
‘ক’ শ্রেণির নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বি.এন.পি প্রার্থী ছাবির আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীকে হারিয়ে বিজয়ী হন।
হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৭ মার্চ। ‘ক’ শ্রেণির এ পৌরসভার প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ৮ মার্চ। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ীরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় একই বছরের ৮ মার্চ। নির্বাচনে বি.এন.পি প্রার্থী জি.কে গৌছ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজানকে হারিয়ে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন গৌছ। এরপর ২০১৯ সালের ২৪ জুন অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান জয়ী হন।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিজয়ীরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় একই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। ‘ক’ শ্রেণির এ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছালেক মিয়া বি.এন.পি প্রার্থী এফ.এম অলিকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘ক’ শ্রেণির সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিজয়ীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনি-উল-সালাদিনকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইয়ুব বখত জগলু বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মেয়র জগলু আকস্মিক মারা যান। এরপর ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনি-উল-সালাদিনকে হারিয়ে প্রয়াত জগলুর সহোদর আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাদের বখত বিজয়ী হন।
‘ক’ শ্রেণির ছাতক পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ীরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ মজনুকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরী জয়ী হন।
‘খ’ শ্রেণির জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ হয় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ বি.এন.পি প্রার্থী রাজু আহমদকে হারিয়ে জয়ী হন। চলতি বছরের গত ১১ জানুয়ারি মেয়র মনাফ মারা গেলে ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী তুমুল প্রচারণার মাঝেই শুরু হয় মহামারী করোনা। এরপর নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
দিরাই পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভার প্রথম সভা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ীরা শপথ নেন ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি। নির্বাচনে বি এনপির প্রার্থী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুককে হারিয়ে আওয়ামী লীগের মোশারফ মিয়া বিজয়ী হন।
মৌলভীবাজার জেলার ‘ক’ শ্রেণির কুলাউড়া পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীরা ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি শপথ নেন। প্রথম সভা হয় ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শফি আলম ইউনুস বি.এন.পির প্রার্থী কামাল আহমদ জুনেদকে হারিয়ে বিজয়ী হন।
‘ক’ শ্রেণির মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি। ভোট গ্রহণ হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর একই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুর রহমান বি.এন.পি প্রার্থী অলিউর রহমানকে হারিয়ে জয়ী হন।
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিজয়ীরা শপথ নেন। একই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সভা। ‘খ’ শ্রেণির এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জুয়েল আহমদ বি.এন.পি প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লবকে হারিয়ে বিজয়ী হন।
‘খ’ শ্রেণির বড়লেখা পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিজয়ীরা শপথ নেন। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খিজির আহমদকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী জয়ী হন। ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে সিলেট বিভাগের এই ১৬ পৌরসভায় মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ৭৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ১৮৯ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৮১ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ১০ জন, বি.এন.পি’র ধানের শীষ প্রতীকে ৩ জন এবং আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতবারের ন্যায় এবারও দলীয় প্রতীকেই মেয়র পদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সিলেটের ১৬ পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্যে প্রস্তুতিও চলছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকাও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।