২৮ আগস্ট ২০২০


‘বালুখেকো’ চক্রের কবলে পাহাড়পুর

শেয়ার করুন

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ যেন ‘বালুখেকো’দের দখলে। বিশেষ করে উপজেলার ২ নং বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুরে সংঘবদ্ধ একটি ‘বালুখেকো’ চক্রের পৃষ্ঠপোষকতায় লক্ষ লক্ষ ঘন ফুট উত্তোলন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে উপজেলার বাকি ইউনিয়নগুলোতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পাহাড়পুরে এই বালুখেকো চক্র বেপরোয়া।

আজমিরীগঞ্জ সদর থেকে পাহাড়পুর যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ বালু উত্তোলন হচ্ছে হর হামেশাই। এর ফলে সরকার যেমন হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব তেমনি অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে পাহাড়পুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম পড়েছে নদী ভাঙনের মুখে।

স্থানীয় ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকা তহসিলদার সালামের নীরব ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে জনসাধারণের মনে। অভিযোগ রয়েছে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে বালু উত্তোলন দেখেও না দেখার ভান করছেন তহসিলদার সালাম। এছাড়াও শুকনো মৌসুমে নদীর চর থেকে শত শত ট্রলি বালু মাটি বিক্রি হলেও নীরব থাকেন তিনি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়- পাহারপুর বাজার সংলগ্ন চরহাটী (বাঁশমহালের) সংলগ্ন বড় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ১০ হাজার ঘনফুট ধারণক্ষমতা সক্ষম নৌকা লোড করা হচ্ছে এবং সেই লোড করা নৌকা নদীর অপরপাড় (সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার) প্রতাপপুরে খালি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাবেল রায়সহ বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপ কালে জানা যায়- ৪/৫ দিন পূর্বেও ঠিক একইভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা বালু উত্তোলনে বাধা দিলে ওই চক্র স্থানীয়দের সাথে খারাপ আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা আবারো শুরু করে বালু উত্তোলন।

তারা জানান- এমন অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যেই পাহাড়পুর বাজার, মামুদপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বদলপুর ইউনিয়নের তহসীলদার সালাম বলেন- ‘আমি কি করবো বলেন, কখনো বালু উত্তোলনকারীরা বলে সুনামগঞ্জের ইউএনও বলেছেন বালু তুলতে আবার কখনো বলেন আমরা রাষ্টপতির এলাকার লোক, তখন আমি করবো! তবে আজকে আমি খবর পেয়ে মেশিন বন্ধ করে তাড়িয়ে দিয়েছি।’

কিন্তু এই বক্তব্যের ঠিক আধাঘন্টা পরই স্থানীয় এক বাসিন্দা ভিডিওকলের মাধ্যমে ড্রেজার চালু থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের দেখান।

এ বিষয়ে আবার তহসীলদার সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুর পাল্টে নেন। তিনি বলেন- সুনামগঞ্জের এক ঠিকাদার বালু তোলেন যার দায়িত্বে রয়েছেন পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুবল দাস। তবে এদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেননি কেন; এই প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।

শাল্লার সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুবল দাসের মুটোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করে এক সময় ফোনটি সুইচ অফ করে দেন।

তবে স্থানীয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাস বলেন- বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা তৎপর রয়েছি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

শেয়ার করুন