৪ জুলাই ২০১৭


বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ত্রাণের জন্য হাহাকার

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। দুই উপজেলার বন্যার্ত মানুষদের মধ্যে এখন হাহাকার চলছে। উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোকে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

প্রায় শতাধিক বিদ্যালয় পানিবন্দি। তাই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা যেতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি শেষে শনিবার খুলেছে বিদ্যালয়। কিন্তুু দুই উপজেলার প্রায় শতাধিক বিদ্যালয় পানি বন্দি থাকায় প্রথম দিনই ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কোন কোন বিদ্যালয়ে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখা গেছে।

বন্যায় পানি বন্দি বিদ্যালয় ও রাস্তা ঘাটে পানি থাকায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম বলে জানান একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।

জানা গেছে, দুই উপজেলার ১৮৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় শতাধিক বিদ্যালয় পানিবন্দি থাকায় বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। দুই উপজেলার বন্যা কবলিত বিদ্যালয়ের কোন তালিকা নেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে।

খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার জায়ফরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হামতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুল্লাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিলমানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নশিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দি খলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরিকুনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলারাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দুই উপজেলার শতাধিক বিদ্যালয় রয়েছে পানিবন্দি এবং একাদিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও পানি রয়েছে।

নিজকরনসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জায়ফরপুর সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে বন্যার পানি থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে পাছে না তাই ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি কম। তাছাড়া অনেকের বাড়িতে পানি থাকায় দূর্ভোগেও অনেকে আসতে পারছেনা।

ওসমানীনগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ পাল মিটুন বলেন, বন্যার পানি বাড়তে থাকায় অনেক বিদ্যালয় পানিবন্দি রয়েছে। এই অবস্থাতে যদিও ছাত্র ছাত্রী উপস্থিতি কম থাকবে তবুও বিদ্যালয় খোলাই থাকবে।

বন্যা কবলিত বিদ্যালয়ের তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে বন্যাকবলিত বিদ্যালয়ের তালিকা না থাকলেও ওসমানীনগর উপজেলা ১৭ জন প্রধান শিক্ষক আমাদের জানিয়েছেন তাদের বিদ্যালয়ে পানিবন্দির কথা।

বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দর রকিব ভূঁইয়া বলেন, বন্যাকবলিত বিদ্যালয়ের তালিকা ঘটন করা হয়নি আগামীকাল তালিকা করা হবে। তবে অনেকেই জানিয়েছেন বন্যার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার কথা।

প্রসঙ্গত, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। দুই উপজেলার বন্যার্ত মানুষদের মধ্যে এখন হাহাকার চলছে। উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোকে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পানিবন্দি লোকজনের অভিযোগ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা শুধুমাত্র বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন আর ফটোশেসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন এবং ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন।

উপজেলার কয়েক শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজনসহ অন্যের বাড়িতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আশ্রয়ের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কয়েক ধাপে পানি বৃদ্ধির কারনে মানুষের দূর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করেছে। দুই উপজেলার সিংহ ভাগ এলাকা বারবার বন্যায় আক্রান্ত হলেও কোনো আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়নি। কয়েক দফায় বন্যা আক্রান্ত হয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন-রাত কাটছে দুই উপজেলার বন্যা কবলিত অধিকাংশ পরিবার।

 

 

(আজকের সিলেট/৪জুন/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন