২৪ জুলাই ২০২০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতাধীন কুলাউড়া-পৃথিমপাশা ও রবিরবাজার-টিলাগাঁও বাজার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। গত জুনের মধ্যে এই দুই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে ৬০ শতাংশ কাজ। দীর্ঘদিন ধরে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ও বর্ষায় সড়কে খানাখন্দে কাদা পানি জমে থাকায় এলাকার লোকজনকে এসব রুটে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সওজ সূত্র জানায়, কুলাউড়া পৌর শহরের নবীন চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় চৌমোহনা থেকে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার হয়ে ঝিলেরপাড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রবির বাজার থেকে টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক রয়েছে। দুটি সড়কই দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙাচোরা। সওজ অধিদপ্তর এই দুটি সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতকরণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই দুই সড়ক সংস্কাররে কাজ পায় ‘ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন’ ও ‘স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয় দুটি সড়কের ও কাজ সম্পন্নের কথা ছিল গত ৩০ জুন।
কুলাউড়ার দুটি সড়ক দিয়ে উপজেলার রাউৎগাঁও, কর্মধা, পৃথিমপাশা, টিলাগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা সদরসহ জেলা সদরে এই সড়ক দিয়েই তারা যা্ওয়া-আসা করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়ক দুটিতে খানাখন্দে জমে থাকা কাদা ও বৃষ্টির পানি দিয়ে অনেক দূর্ভোগ নিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। আগে যেখানে ২০ মিনিট সময় লাগতো সেখানে ৪০ মিনিট সময় লাগছে। সড়কের ৪০ মিনিটে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে পার করছেন। করোনা সংকটে গত মার্চ মাস থেকে কাজ অনেকটাই বন্ধ এবং ধীরগতি। স্কুল চৌমোহনা থেকে চৌধুরীবাজার পর্যন্ত পিচ ঢালাই কাজ সম্পন্ন হলেও চৌধুরীবাজার থেকে পৃথিমপাশা ঝিলেরপার পর্যন্ত ভাঙাচোরা। বর্ষাকাল হওয়ায় সড়কের খানাখন্দে কাঁদাপানিতে ভরপুর। খানাখন্দের ঝাঁকুনিতে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালক এবং যাত্রীরা চরম বেকায়দায় পড়ছেন।
রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে এ দুই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা ভাড়া হাঁকছেন বেশি। কুলাউড়া-রবিরবাজার ১০ কিলোমিটার সড়কের সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া ছিলো ২০ টাকা। রাস্তা বেহাল দশার অজুহাতে চালকরাও ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে এ রুটে চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগের পাশাপাশি ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। গাড়ির মালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাঙাচোরা এ সড়কে গাড়ি চালানোর কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজী মারুফ আহমদ ও সৈয়দ আশফাক তানভীর জানান, কুলাউড়ার দুটি সড়কের কাজে শুরু থেকেই ধীরগতি। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীকে শহরে হাসপাতালে নিতে বিপাকে পড়তে হয় এসব এলাকার মানুষকে। সড়কের কাজ দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সিপিবির উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোশারফ আলী বলেন, কুলাউড়ার দুটি সড়কের কাজে শুরু থেকেই ধীরগতি। কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে গত জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগী বিভিন্ন এলাকার লোক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু তাতেও গতি বাড়েনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কাজে ধীরগতির বিষয়টি অস্বীকার করছি না। করোনা পরিস্থিতিতে বেশি সমস্যা হচ্ছে। দুটি সড়কের মধ্যে কুলাউড়া-পৃথিমপাশা সড়কের তিন কিলোমিটার জায়গা পাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কগুলোর কাজে প্রচুর পাথর লাগে। কিন্তু এলসির মাধ্যমে পাথর সরবরাহ বন্ধ। ফলে সড়কগুলোর অবশিষ্ট অংশে পাথরের স্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সওজ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সড়কগুলোর কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে আগে থেকে কিছু সমস্যা ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার এখন চলমান সব কাজের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত এসব সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।