২৪ জুলাই ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : বিদেশযাত্রীদের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এরআগে বুধবার থেকে শুরু হয় নিবন্ধন। তবে করোনা পরীক্ষার নিবন্ধন করাতেই ভোগান্তিতে শিকার হচ্ছে প্রবাসীদের। রেজিস্ট্রেশন, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহণের জন্য পরপর তিনদিন সিলেট আসতে হচ্ছে বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রবাসীদের। এতে করোনা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। এজন্য অনলাইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ও রিপোর্ট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন বিদেশযাত্রীরা।
সিলেট বিভাগের বিদেশযাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে। আর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন করতে সিলেট সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে। রিপোর্টও প্রদান করা হবে এই কার্যালয় থেকে। রেজিস্ট্রেশন, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহণের জন্য পরপর তিনদিন সিলেট আসতে হচ্ছে বিদেশযাত্রীদের।
লোকবল সঙ্কট ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, সরকার বিভাগীয় পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে কিছু গাইড লাইন দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে ভোগান্তি কমানোর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষার জন্য ১৫ দিনের সিডিউল তৈরি করেছে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়।
এতে বিমানের ফ্লাইট অনুসারে যাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন, নমুনা গ্রহণ ও রিপোর্ট প্রদানের সময়সূচী প্রদান করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘বিদেশগামীরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদানের পর থেকে ফ্লাইটের পূর্ব পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।’
তবে এর পরের লাইনের আবার লেখা রয়েছে- ‘পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদানের পরের দিন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিদেশগামী যাত্রীকে সশরীরের উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে এসেছিলেন হবিগঞ্জের রাজনগর এলাকার মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আশফাকুর রহমান।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এই নির্দেশনা দেখিয়ে তিনি বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে আবার সশরীরে রিপোর্ট নিতে আসতে বলা হয়েছে। এই দুটো মেনে চলা কিভাবে সম্ভব। কোয়ারেন্টিনে থাকলে হবিগঞ্জ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের সিলেটে আসবো কি করে?
বুধবার থেকে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভাগের বিদেশযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হয়। ২৬ জুলাই যাদের ফ্লাইট তাদের নিবন্ধন করা হয় বুধবার। বৃহস্পতিবার এই নিবন্ধনকারীরা আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নমুনা জমা দেন। শুক্রবার সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করবেন। অপরদিকে, ২৭ মার্চ যাদের ফ্লাইট তারা বৃহস্পতিবার নিবন্ধন করেন। শুক্রবার এদের নমুনা গ্রহণ ও শনিবার রিপোর্ট প্রদান করা হবে। এভাবে ফ্লাইট অনুসারে আগামী ১৫ দিনের নমুনা সংগ্রহের সিডিউল প্রকাশ করেছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার জন্য বিভাগের ৮৯ জন বিদেশযাত্রী নিবন্ধন করেন। এরআগেরদিন বুধবার নিবন্ধন করেন ১৬৯ জন। বৃহস্পতিবার যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
বৃহস্পতিবার আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সে নমুনা জমা দেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, বন্যায় বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। রাস্তাঘাটও তলিয়ে গেছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে থাকাও সম্ভব নয়। তাই অনেক কষ্টে প্রতিদিন সিলেট আসতে হচ্ছে। তাও সকালের মধ্যে সিলেটে পৌঁছতে হয়। করোনা পরীক্ষা করানোই একটি বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জন্য।
কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমদও বৃহস্পতিবার নমুনা জমা দিতে এসেছিলেন। তিনি বকলেন, বাসে করে প্রতিদিন যাওয়া আসা করলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার বরং ঝুঁকি থাকে। তাই পরপর তিনদিন না এসে একদিন এসেই যদি পরীক্ষা করানো যেতো তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো।
বৃহস্পতিবার নমুনা জমা দিতে ও নিবন্ধন করতে আসা প্রায় সকলেই অনলাইনে নিবন্ধন ও রিপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এমনটি করলে কেবল নমুনা জমাদানের জন্য একদিন সিলেট শহরে এসেই করোনা পরীক্ষা করানো সম্ভব হবে।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, আমরা প্রবাসীদের সেবা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ওসমানী মেডিকেলের ল্যাবে যেহেতু বিদেশযাত্রী ছাড়া সাধারণ রোগীদেরও করোনা পরীক্ষা হচ্ছে তাই নমুনা সংগ্রহের দিনই তাদের রিপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে না। তবে একদিন পরই আমরা রিপোর্ট দিয়ে দেবো।
অনলাইনে নিবন্ধন ও রিপোর্ট প্রদানের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ফেলার ঝুঁকি থাকে। অনেক দালাল ও প্রতারক এই সুযোগ নিয়ে প্রতারণা শুরু করতে পারে। তাই আমরা তাদের আসতে বলছি।
নমুনা প্রদানের পর কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে রিপোর্ট নিতে সশরীরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা (যাত্রীরা) যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে গাড়িতে করে যাওয়া আসা করেন তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া নির্দেশনা দিলেও তো কেউ কোয়ারেন্টিনে থাকেন না। গত ৪ মাসে আমরা তো এমনটাই দেখে আসছি।