২৩ জুলাই ২০২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ফের বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ৩য় ধাপের এ বন্যায় বিপর্যস্ত হাওরবাসী। গত কয়েকদিন ধরে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ও সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় ২৪ দিন পর ৩য় ধাপে বন্যা দেখা দেয়। স্মরণকালের ইতিহাসে এ প্রথম পর পর তিন বার বন্যা দেখা দেয় সুনামগঞ্জে। গেল দু’বারের চাইতে এবার পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। হাওরের মানুষজন এত অসহায় যে, ঘুরে দাঁড়াবার কোন পথই খোঁজে পাচ্ছে না। কর্মহীন হয়ে পড়া বিপাকে পড়েছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। হাওরে ঘরবাড়ি আফালের ঢেউয়ে ভাঙ্গনের মুখে পড়ছে। কচুরিপানা ও বাঁশ দিয়ে ঢেউ রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পয়:নিস্কাশনের অসহনীয় দুর্ভোগ এখন নিত্যসঙ্গী।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আব্দুল আলীম জানান, ফের বন্যায় জীবন জীবিকা নিয়ে হুমকীর মুখে পড়েছে মানুষ। বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠার সাধ্য অনেকের নেই। ঘরে খাবার নেই। সরকারের ত্রাণ কেউ পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন কবলিত ধনপুর, সর্দারপুর গ্রামে নদীর পানি ফুলে আছড়ে হানা দিচ্ছে ঘরবাড়িতে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সব গ্রামের উঠান পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। আর ১ফুট বাড়লে পানি ঢুকে যাবে ঘরে।
শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা অরুন চক্রবর্তী জানান, শহরেও বাস করে পানি ঢুকে পড়ে বাসা বাড়িতে। তিনি জানান, শহর রক্ষাবাঁধ ও খামার খালটি উদ্ধার না হওয়ায় শহর ডুবে যায়। এসব থেকে পরিত্রাণের দাবি জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে ৩৪ সে:মিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরও দুই, এক দুই দিন উজানে বৃষ্টিপাত হবে। সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ কমিটির জরুরি বৈঠক করা হয়েছে প্রতিটি উপজেলায়। পানিবন্দি মানুষজন যাতে আশ্রয় নিতে পারে এজন্য জেলায় প্রায় ৩শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। শুকনো খাবারও মজুদ রাখা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।